উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা

নীলফামারী প্রতিনিধি :

 

দীর্ঘদিনের অবহেলা, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তির চিত্র পেছনে ফেলে নতুন রূপে এগিয়ে যাচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র এক বছর দুই মাসে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে পৌর এলাকার দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটিয়েছেন প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম।

ফলে শহরের অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, বিনোদন ও নাগরিক সেবায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এখন উন্নয়নের ছোঁয়া স্পষ্ট। বিশেষ করে শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠটি পেয়েছে আধুনিক রূপ। মাঠের চারপাশে বসার সুব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধনে গাছপালা রোপণ এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যায়ামাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল-বিকেলে সেখানে শতাধিক মানুষ হাঁটা ও শরীরচর্চা করছেন। মাঠে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করায় পরিবেশও ফিরে পেয়েছে স্বাভাবিকতা। পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক শৌচাগার।

শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে অলিগলিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এছাড়া মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে মশকনিধন কার্যক্রম।

শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পৌর শিশু পার্ক, যা স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও জেলায় গড়ে ওঠেনি। একইসঙ্গে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নির্মিত হয়েছে টেরাকোটায় সাজানো দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত মঞ্চ, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক কসাইখানাও।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

পৌরসভার অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক শপিংমল নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। পৌরভবনের পাশে নির্মিতব্য এ শপিংমলে থাকবে লিফট, শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

শহরের আনন্দ বাবুর পুল এলাকার বাসিন্দা সিজানুর রহমান বলেন, “মাত্র এক বছরেই অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ইচ্ছা থাকলে যে পরিবর্তন সম্ভব, সেটি এখন চোখে পড়ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল হক বলেন, “আগে পৌরসভার নানা সমস্যা ছিল। এখন ধীরে ধীরে সেগুলোর সমাধান হচ্ছে। শহরটা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বাসযোগ্য হয়েছে।”

রাহাত হোসেন বলেন, “বড় মাঠের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। এখন পরিবার নিয়ে সেখানে সময় কাটানো যায়, যা আগে কল্পনাও করা যেত না।”

পৌর প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সুযোগ পেলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। একটি মানসম্মত স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে না হয়। এছাড়া শহর সম্প্রসারণ এবং চৌরঙ্গী মোড় থেকে গাছবাড়ি পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নীলফামারীর সার্বিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “নীলফামারীর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতেও বড় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

নাগরিকদের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে নীলফামারী পৌরসভা উত্তরাঞ্চলের একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহরে পরিণত হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here