রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীতে চলমান আদালতের মামলা উপেক্ষা করে মব সৃষ্টি করে বসতভিটা ও মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মাজেদ। বুধবার (৬ মে) সকালে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আব্দুল মাজেদ বলেন, তিনি রাজশাহীর ঘোড়ামারা এলাকার সুলতানাবাদের স্থায়ী বাসিন্দা ও এলাকার পরিচিত ব্যবসায়ী। তাঁর দাবি, গত ২৩ এপ্রিল সকালে কিছু দুষ্কৃতিকারী ও ভূমিদস্যু সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর পৈতৃক বসতবাড়ি ও মার্কেট জোরপূর্বক ভেঙে ফেলে এবং সেখানে থাকা মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্পত্তিটি নিয়ে উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা নং-১০৫৮৮/২৫ এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশনে মামলা নং-৪২৩/২৩ চলমান রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী সহকারী সিভিল জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা নং-৯৩/২২ এবং মূল মামলা নং-৬৮/১৭ বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার কারণে সম্পত্তির ওপর আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মাজেদ বলেন, “মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোনো স্থাপনা ভাঙা, দখল করা কিংবা ক্ষতিসাধন করা আইনত অবৈধ। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধভাবে আমার বসতভিটা ও মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দোসর ও ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত মো. মাসুম সরকার (রাঙ্গাপরি), কামরুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং ষষ্ঠিতলা এলাকার ‘হারু গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি চক্র এ ঘটনায় জড়িত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল কয়েকদিন ধরে এলাকায় অবস্থান নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সন্ত্রাসী কায়দায় ভাঙচুর চালায়।
তিনি আরও বলেন, “রাতদিন পাহারা দিয়ে মব সৃষ্টি করে আমার বাড়ি ও মার্কেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। আশপাশের দোকানদার ও এলাকাবাসী সব দেখেছেন।”
আব্দুল মাজেদ দাবি করেন, ঘটনার আগে অভিযুক্তদের আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ভাঙচুর বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বাড়ির সামনে মামলাসংক্রান্ত সতর্কীকরণ ব্যানারও টাঙানো ছিল বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
তিনি ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান (রিটন), রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

