নাজিরপুরে ভুয়া নিলাম ও দলিলে জমি দখলের পায়তারা: বিপাকে প্রকৃত মালিকরা

পিরোজপুর প্রতিনিধি :

 

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ১নং মাটিভাংগা ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়ারি এলাকায় ভুয়া নিলাম ও জাল দলিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের অব্যাহত হুমকি ও হয়রানির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রকৃত মালিকরা। এমনকি নিজেদের রোপণ করা ধান কাটতেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু মোক্তার শেখ, শহিদুল ইসলাম হেকমত, কেরামত শেখ, হেদায়েত, লিংকন ও রুবেলসহ একই গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন এই দখলের সাথে জড়িত। স্থানীয়রা জানান, এই চক্রটি বিগত আওয়ামী শাসনামলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

সরেজমিনে উক্ত এলাকায় অনুসন্ধানে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এসময় এলাকার শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ একত্রিত হয়ে উক্ত ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। স্থানীয়রা জানান, এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে হয়রানি করে আসছে। উপস্থিত গ্রামবাসীরা সমস্বরে এই চক্রের বিচার দাবি করেন এবং তাদের বিভিন্ন অপকর্মের খতিয়ান তুলে ধরেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, চক্রটি ১৯৫৮ সালের ১২ নভেম্বর তারিখের একটি ভুয়া ও জাল নিলামের কাগজ তৈরি করেছে, যার কোনো অস্তিত্ব সরকারি ডায়েরিতে নেই। পরবর্তীতে একই দাগ ও খতিয়ানে ১৯৯০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি ‘ক ওলা’ দলিল প্রদর্শন করে তারা। এই সকল ভিত্তিহীন ও সৃজিত কাগজপত্রের মাধ্যমে তারা নাজিরপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের নিকট একটি মিস কেস (কেস নং- ৪৩, ২০২৬) দাখিল করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

সরকারি দাখিলা, প্রকৃত দলিল ও মিউটেশন অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক হলেন অশোক ঘরামী, সুশান্ত ঘরামী, বিনোদ চন্দ্র ঘরামী, গোপাল ঘরামী এবং এম আনোয়ারুল আলম পলাশ। তারা সকলেই উত্তর বানিয়ারি এলাকার বাসিন্দা। প্রকৃত মালিকরা নিয়মিত সরকারি খাজনা-পাতি পরিশোধ করে সম্পত্তি ভোগ করে আসছেন। কিন্তু উক্ত ভূমিদস্যুরা প্রকৃত মালিকদের পৈতৃক জমি থেকে উৎখাত করার জন্য সর্বপ্রকার পায়তারা চালাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। বর্তমানে তারা জমিতে ধান রোপণ করলেও অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ধান কাটতে বাধা দিচ্ছে এবং মালিকদের মারপিটসহ প্রাণনাশের মারাত্মক হুমকি দিচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চক্রের অন্যতম সদস্য শহিদুল ইসলাম হেকমত বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা থাকলেও বর্তমানে ভোল পাল্টে বিএনপির রাজনীতির ছত্রছায়ায় মিশে গিয়েছেন। এই নতুন পরিচয় ব্যবহার করে তিনি তার গোষ্ঠীর ভূমিদস্যুদের সহায়তা করছেন। এমনকি কিছুদিন আগে সরকারি পানির ট্যাংক ও পিলার চুরির মতো অপরাধেও তার নাম জড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে লড়ে যাচ্ছি, কিন্তু ভূমিদস্যুরা পেশিশক্তি ব্যবহার করে আমাদের জমি দখল করতে চায়। আমরা আমাদের নিজেদের শ্রমের ফসল ঘরে তুলতে পারছি না।”

চিহ্নিত এই ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here