স্বাক্ষর জালিয়াতির আসামিকে ফেরাতে আপত্তি, ওএসডি সিভিল সার্জন-স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড়

স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার আসামির পুনঃপদায়নে আপত্তি: ‘শাস্তি’ পেয়ে ওএসডি হলেন ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন শেখ হাসিনার স্বাক্ষর জালিয়াতিতে গ্রেপ্তার হওয়া হিসাবরক্ষক মেহেদীকে যোগদান করাতে অস্বীকৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বরখাস্ত হিসাবরক্ষক মো. ইমরান মেহেদী হাসান আরিফের পুনঃপদায়ন ঘিরে স্বাস্থ্য বিভাগে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ওই পদায়নে আপত্তি জানানোর জেরে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খানকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সনজীদা শারমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ওএসডি করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ আনা হলেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আলোচিত হিসাবরক্ষক মো. ইমরান মেহেদী হাসান আরিফের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগেও তিনি অভিযুক্ত।

২০২২ সালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন মেহেদী। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে একই বছরের ৭ জুলাই তাকে মাগুরার শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাস্তিমূলক বদলি করে বরখাস্ত করা হয়।তদবিরে ফের ময়মনসিংহে, আপত্তি সিভিল সার্জনের

অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ২৯ জুলাই বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে মেহেদী পুনরায় ময়মনসিংহে পদায়ন নেন। তবে সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খান ওই পদায়নে আপত্তি জানিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আদেশ পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই আপত্তিই তার ওএসডি হওয়ার মূল কারণ।

এদিকে, ইমরান মেহেদীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুরে দুটি জিডি ও একটি সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

যদিও মেহেদী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।পাল্টা অভিযোগ সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ওএসডির পর সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে আউটসোর্সিং টেন্ডার বর্ধিতকরণ, ক্লিনিক-হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

যদিও কমিটির একজন সদস্য ডা. মাঈনুদ্দিন খান জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি।হাজতবাসকারী ব্যক্তির যোগদানে আপত্তিই অপরাধ।

এসব বিষয়ে ডা. ছাইফুল ইসলাম খান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার স্বার্থে একজন হাজতবাসকারী ব্যক্তির যোগদানে আপত্তি জানিয়েছিলাম।

সেটিই হয়তো আমার ‘অপরাধ’ হয়েছে।ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ বলেন, “ওএসডির সুনির্দিষ্ট কারণ আমার জানা নেই। তবে আউটসোর্সিং টেন্ডার বর্ধিত করার বিষয়ে আমি আপত্তি জানিয়েছি। আমি কখনো জেলখাটা কোনো আসামির যোগদানের পক্ষে মত দিইনি।

৯ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ এদিকে ১৫১ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে প্রায় ৯ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বড় নিয়োগকে কেন্দ্র করে ‘প্রভাবশালী চক্র’ সক্রিয়

স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বড় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সিভিল সার্জনকে সরিয়ে দিয়ে ওই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সুশাসন ও স্বচ্ছতার স্বার্থে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here