নিজস্ব প্রতিবেদক :
উপজেলা পরিষদ বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি অগুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার স্তর, যা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলেও একজন চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস-চেয়ারম্যান (একজন নারী) নিয়ে গঠিত। বর্তমানে দেশে মোট ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে, যা গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজে মন্থরগতি করে।
প্রতি উপজেলায় একজন নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারা সকল কর্ম পরিচালিত হলেও উপজেলা পরিষদ কার্যকরে সকল কাজকে আরো কঠিন ও ব্যয়বহুল ও দীর্ঘসূত্রী করে তোলে।দেশের সরকারকে এ খাতে একটা বড় অংকের টাকা গচ্চা দিতে হয়।
বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদগুলোর ব্যয় মূলত রাজস্ব তহবিল এবং উন্নয়ন তহবিল—এই দুই ভাগে বিভক্ত। সারা দেশের উপজেলাগুলোর ব্যয়ের নির্দিষ্ট কোনো একক বার্ষিক অংক জানা না গেলেও, সরকার স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতের মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যানদের মাসিক সম্মানী ৪০,০০০ টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের ২৭,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্যে আলাদা একটি গাড়ি ও গাড়ীর ড্রাইভার এ যেন স্বল্পউন্নত দেশে বাড়তি ব্যয় ও জনসাধারণের কষ্টের রাজস্বের অপব্যবহার।
দেশের ৬২ জেলার ৩২২টি উপজেলা রয়েছে।উপজেলা পরিষদ কার্যকর হলে সরকারকে গুনতে হয় বড় অংকের টাকা যা দেশের জনগণের করের টাকার আর একটি অপব্যবহার।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উপজেলা নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারকে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।
২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারের কাছে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট চেয়েছে । ভোটার উপস্থিতি হ্রাস পেলেও নির্বাচন পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং ইভিএম ব্যবহারের জন্য এই ব্যয় গতবারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ও জামানতের অংকও বৃদ্ধি করা হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়া সত্ত্বেও এই উচ্চ ব্যয় অর্থনৈতিক অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।
উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের মুলত জনগনের সঙ্গে সস্পর্কিত প্রশাসনিক বা উন্নয়নমুখী কোন কাজে না আসলেও কেন এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি তৈরীর প্রযোজনীয়তা তা জনগনের কাছে আজও অজানাই রয়ে গেছে।
প্রতিবেদক: ম.ম. রবি ডাকুয়া জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট
এই বাংলা/এমএস
টপিক

