ময়মনসিংহে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ক্লিনিক: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নার্সিং কোর্স ছাড়াই চলছে চিকিৎসা

রোগীর জীবন হুমকির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

ময়মনসিংহ নগরীসহ প্রতিটি উপজেলায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠছে এসব প্রতিষ্ঠান।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র হলো, এসব ক্লিনিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নার্সিংয়ের কোনো কোর্স ছাড়াই রোগী দেখা, ইনজেকশন দেওয়া, ড্রেসিং এমনকি ওটিতে সহায়তার মতো স্পর্শকাতর কাজ করছে অদক্ষ কর্মচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, ভালুকা, ফুলবাড়ীয়া, ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার পাড়া-মহল্লা ও বাজারগুলোতে নামে-বেনামে শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে।

এগুলোর বেশিরভাগেরই নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে দুটি বেড বসিয়েই ‘হাসপাতাল’ নাম দিয়ে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে একটি চক্র।সরেজমিনে দেখা যায়, এসব ক্লিনিকে ডাক্তারের বদলে চিকিৎসা দিচ্ছেন এসএসসি পাস না করা কর্মচারী।

নার্স হিসেবে কাজ করছেন এমন নারীরা, যাদের ডিপ্লোমা ইন নার্সিং তো দূরের কথা, নার্সিংয়ের কোনো প্রশিক্ষণই নেই। ওয়ার্ডবয়-আয়ারা রোগীর স্যালাইন পুশ করছেন, ইনজেকশন দিচ্ছেন, কাটা-ছেঁড়া সেলাই করছেন। অনেক ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারেও অদক্ষ লোক দিয়ে ডাক্তারকে ‘অ্যাসিস্ট’ করানো হচ্ছে।

ভুল চিকিৎসার শিকার রোগীদের অভিযোগ, “জ্বর নিয়ে গিয়েছিলাম, ইনজেকশন দিয়ে হাত ফুলিয়ে ফেলেছে। পরে মেডিকেলে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।” আরেকজন বলেন, “সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের মাথায় আঘাত করেছে।

মা ও শিশু দুজনই এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।” এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও ক্লিনিক মালিকরা প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্লিনিকের সংখ্যা হাতেগোনা। বাকিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। সিভিল সার্জন বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই।

অভিযোগ পেলেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়। তবে জনবল সংকটের কারণে সবসময় নজরদারি সম্ভব হয় না।

অদক্ষ লোক দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও ফৌজদারি অপরাধ।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নার্সিং একটি কারিগরি পেশা।

তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ও বিএনএমসি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কেউ নার্স হিসেবে কাজ করতে পারে না। অদক্ষ হাতে ইনজেকশন, ক্যানুলা বা সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ব্যবহারে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি, সি ও এইচআইভির মতো মরণব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকিও থাকে।

এই অবস্থায় ময়মনসিংহের সচেতন মহল অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক বন্ধ, ভুয়া নার্স ও টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং চিকিৎসকদের নাম-পদবি ও বিএমডিসি নম্বরসহ তালিকা প্রতিটি ক্লিনিকে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি তাদের।

চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর সেবায় এই অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সবাই।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here