কৃষকের সংকটময় জীবনে চোখের পানি দেখার নেই কেউ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

এক সময় বর্গিদের কারণে কাঁদতেন কৃষক। এখনো কাঁদেন। বর্গির হামলা না থাকলেও কান্নার কারণ আছে অনেক। আছে লোডশেডিং, ডিজেল সংকট, নেই ন্যায্য দাম।

উত্তরের কৃষিপ্রধান জেলা কুড়িগ্রাম। অথচ সেই জেলার কৃষকদের মনে নেই স্বস্তি। একদিকে জ্বালানি সংকটে চাষ দিতে পারছেন না জমি, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে পানিও দিতে পারছেন না বোরো ক্ষেতে। এত কিছুর পরেও পাচ্ছেন না ন্যায্য দাম। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

এদিকে ফসলের লাভ-লোকসান নিয়ে কথা বলতে নারাজ কৃষকরা। তাদের কথা, কী হবে এসব বলে? কোনো কাজ তো হয় না। এত এত খবরের পরেও সরকার তো তাকায় না তাদের দিকে।

কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকার ১৫ জন কৃষকের কথা প্রায় একই। তাদের কষ্ট, কৃষিতে লাভ নেই। উল্টো নতুন করে যোগ হয়েছে ডিজেলের দাম।

লোডশেডিংয়ের কথা আর কী বলা? শহরে এর প্রভাব কম হলেও গ্রামে কারেন্ট থাকে না বললেই চলে। তাই পানির অভাবে ক্ষেতেই শুকিয়ে মরছে মাঠের ফসল।

কথা হয় কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক মোঃ ফজল মিয়ার সঙ্গে। কৃষিকাজের সঙ্গে তিনি আছেন ৪০ বছর। হাতে অন্য কাজ নেই। তাই উপায় না পেয়ে কৃষিতেই লোকসান গুনছেন বছরের পর বছর। পেট চালানোর মতো অন্য কোনো উপায় থাকলে সেই কাজই করতেন তিনি। লোডশেডিং নিয়ে চরম বিরক্ত ফজল মিয়ার কথা, জমি ফেটে গেলেও দিতে পারছেন না পানি।

 

এ কৃষকের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই পাশে দাঁড়ান আরেক কৃষক মোঃ গফুর মিয়া। বোরোর ক্ষেতে তিনি পানি দেন পাম্প দিয়ে। তার বক্তব্য, এলাকায় কারেন্ট যায় বেশি, আসে কম। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো জমিতে পানিও দিতে পারছেন না তিনি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

হাঁটতে হাঁটতে দূরে দেখা মেলে কৃষক মোঃ রহমত মিয়ার। দুপুরের কড়া রোদে পাটক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছিলেন তিনি। এবার ৩৫ শতক জমিতে করেছেন পাটচাষ। তবে ফলন নিয়ে আছে শঙ্কা। ডিজেলের দাম নিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, ‘বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। এর ওপর বাড়ছে ডিজেলের দাম। আমরা যাব কোথায়?’

তবে ডিজেলের দাম নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার কৃষক মোঃ সানাউল মিয়ার। তার কথা, ‘ডিজেলের দাম বাড়ছে, সেটা মানছি। কিন্তু তেল তো পাই না। পাইলেও আজ নাই, কাইল আসো— এমন ব্যাপার চলছে।’

লোডশেডিংয়ের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করলেন কুড়িগ্রাম-লালমিনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শামীম পারভেজ।

তার তথ্যমতে, এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৭২ হাজার। দৈনিক গড় চাহিদা ৭৫ থেকে ৮০ মেগাওয়াট। একেক সময় চাহিদা একেক রকম। গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হয় পল্লীবিদ্যুৎ আওতাধীন এলাকায়।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুনের আশ্বাস, কৃষকরা যাতে তাদের প্রয়োজনমতো ডিজেল পান, সেই বিষয়ে সব উপজেলা কৃষি অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরপরও যদি কোনো কৃষক ডিজেল না পান, তাহলে নিজ নিজ এলাকার কৃষি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রত্যয়ন লিখে দেবেন জানালেন তিনি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here