ঈশ্বরদীতে সিন্ডিকেটের কবজায় জ্বালানি তেল পাম্পে হাহাকার, চড়া দামে কালোবাজারে সয়লাব

পাবনা প্রতিনিধি :

 

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি আশ্বাস থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঈশ্বরদীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার চললেও অসাধু সিন্ডিকেটের হাত ধরে কালোবাজারে কয়েক গুণ বেশি দামে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন সাধারণ চালকরা, কালোবাজারি বোতলে ভরে চড়া দামে মিলছে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে,অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ সরাসরি এই কালোবাজারির সাথে জড়িত। তারা সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিলেও রাতের আঁধারে বা গোপনে ড্রাম ও কন্টেইনারে করে তেল সরিয়ে ফেলছে। পরবর্তীতে সেই তেল পাম্পের আশপাশের দোকানগুলোতে ২ থেকে ৩ গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীতে প্রতি লিটার অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, দেশে বর্তমানে গ্যাসের কোনো বড় সংকট না থাকলেও বহু গ্যাসচালিত প্রাইভেট কারকে নিয়মিত তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি,এই গাড়িগুলোর চালক বা মালিকরা সাধারণ ক্রেতা সেজে পাম্প থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। পরে সেই তেল মজুদ করে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এক শ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী এই সংকটকে পুঁজি করে রাতারাতি মুনাফা লাভের ব্যবসায় মেতে উঠেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এদিকে, তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটর সাইকেল চালক এবং গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা। একজন ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘পাম্পে আসলে বলে তেল শেষ। কিন্তু পাম্পের ১০০ গজ দূরেই দোকানে বোতলে তেল সাজানো। সেখানে লিটারে ৮০-১০০ টাকা বেশি নিচ্ছি। এটা তো মগের মুল্লুক হতে পারে না। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে কোনো তেলের সংকট নেই, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘কৃত্রিম সংকট’। সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিজেল ও অকটেন মজুত থাকলেও ডিস্ট্রিবিউশন চেইনে কালো বাজারিদের অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

সচেতন মহলের দাবি, এই অসাধু চক্রকে এখনই রুখতে না পারলে জনরোষ আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কালোবাজারিদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন পাম্পে গেলে তেল নেই, অথচ কালোবাজারে তেলের মেলা! হাজেরা আর সোয়াদ ফিলিং স্টেশনের মতো অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণেই আজ সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here