দৌলতপুরে যুবলীগের বিতর্কিত কমিটি: নিষিদ্ধ ও বিএনপি-সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

বিতর্কে সাবেক উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক :


মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় বাচামারা ও ধামস্বর ইউনিয়ন যুবলীগের নতুন কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ, পলাতক এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফয়জুল ইসলাম নাজমুলের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, মো. ফয়জুল ইসলাম নাজমুল ২০২২ সালের ৩০ মে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বেচ্ছায় লিখিতভাবে রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেন, যা জেলা আওয়ামী যুবলীগ গ্রহণ করে। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি গা ঢাকা দিয়ে পলাতক অবস্থায় থাকাকালীন গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে যুবলীগের প্যাড ব্যবহার করে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ও ধামস্বর ইউনিয়ন যুবলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেন। এতে তার স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ত্যাগী যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নতুন কমিটির অধিকাংশ সদস্যই দলের জন্য অতীতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেননি। অনেকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং কয়েকজন বিভিন্ন মামলার কারণে পলাতক রয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কমিটিতে নাম থাকা অনেকেই বিষয়টি আগে থেকে জানতেন না। বিষয়টি জানার পর বাচামারা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. নাসিম হোসেন, মো. লিটন হোসেন সাকিব, মো. আসলাম সরদার (সহ-সাধারণ সম্পাদক) এবং ধামস্বর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি এইচ. ডি. কাদের ও মো. ইসমাইল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামস্বর ইউনিয়ন যুবলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়ার সঙ্গে নাজমুলের ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা চলছে।

উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো ফয়জুল ইসলাম নাজমুল

এছাড়া, দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই একজন পদত্যাগকারী নেতার এমন কমিটি অনুমোদন দলীয় গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ করেন, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, “নিষিদ্ধ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই এমন কার্যক্রম সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here