বরগুনায় স্বামীর সহায়তায় স্ত্রীকে ধর্ষন: অভিযুক্ত স্বামিসহ গ্রেপ্তার ২

বামনা প্রতিনিধি :

 

বরগুনায় মানবিকতা ও পারিবারিক সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে স্বামীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত প্রধান আসামী ইব্রাহিম পলাতক রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার(২ এপ্রিল) রাতে বরগুনার বামনা উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার(৩ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধু ৩জনকে আসামী করে বামনা থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযুক্ত আসামীরা হলেন, ডৌয়াতলা ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া গ্রামের নূর আলমের ছেলে মো. ইব্রাহীম(৩৫), একই ইউনিয়নের খুচনীচোরা গ্রামের মো. মান্নান খানের ছেলে মহারাজ(৩৫) ও ভিকটিমের স্বামী ছোনবুনিয়া গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে হেলাল ফকির(২৮)।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী হেলাল ফকির পেশার দিনমজুর। তার সাথে তরমুজ ক্ষেতে ইব্রাহিম ও মহারাজ নামে আরো দুজন শ্রমিকের কাজ করে।

এ সুবাদে তাদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরী হয়। হেলালের বাড়িতে ওই দুজন প্রায়ই যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভুক্তভোগি গৃহবধুর স্বামী অভিযুক্ত ইব্রাহিম ও মহারজকে নিয়ে তার বাড়িতে আসে ও তাদের জন্য রান্না করার জন্য বলে। রাতে খাওয়া শেষ হলে ওই দুজনের ঘুমানোর ব্যবস্থা করার জন্য বলেন।

এর পর ওই ভুক্তভোগী গৃহবধু মেহমানদের ঘুমানোর ব্যবস্থা করে নিজেও তার স্বামীর কাছে ঘুমায়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইব্রাহিম ওই গৃহবধূর ঘুমানোর খাটের কাছে গিয়ে তার মাথায় হাত দেয়।

এতে তার ঘুম ভেঙ্গে গেলে তাকে জোড় পূর্বক খাট থেকে নিচে নামানোর চেস্টা করে। এসময় ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীকে বার বার ডাকচিৎকার দিয়ে জাগানোর চেস্টা করলেও সে গভীর ঘুমে থাকার অভিনয় করে। এসময় ওই নারী তার ঘুম ভাঙবার জন্য শরীররে আঘাত করলেও তার ঘুম ভাঙ্গে নাই।

পরে অভিযুক্ত ধর্ষক তাকে জোড় করে বারান্দায় নিয়ে উপর্যুপরি ধর্ষন করে। এসময় তার স্বামী হেলাল ফকির ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষিত হতে দেখার পরেও পুনরায় খাটে গিয়ে শুয়ে পরে। এদিকে অপর অভিযুক্ত মহারাজ ধর্ষনকারীকে সহায়তা করতে দরজায় পাহারায় থাকে।

পরে ভোর ৫টার দিকে ধর্ষক তার সহসহযোগি ও স্বামি ঘর থেকে চলে গেলে ওই গৃহবধু পার্শ্ববর্তী ঘরগিয়ে তাদেরকে সব ঘটনা বর্ননা করেন।

ধীরে ধীরে বিষয়টি জানা জানি হলে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা তার স্বামী ও আরেক সহযোগী অভিযুক্ত মহারাজকে আটক করে।

পরে বামনা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকৃতদের বামনা থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই ওই গহবধূ নিজে বাদি হয়ে স্বামীসহ ৩জনকে আসামী করে বামনা থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করেন।

এঘটনার প্রধান আসামী অভিযুক্ত মূল ধর্ষক ইব্রাহিম বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, তার স্বামী ও অভিযুক্ত ২জন তরমুজ ক্ষেতে একসাথে শ্রমিকের কাজ করেন। এসুবাদে তারা প্রায়ই তাদের ঘরে যাতায়াত করতো। অভিযুক্ত ইব্রাহিম বাসায় এলে তার দিকে কুনজরে তাকাতো। বিষয়টি সে তার স্বামীকে জানালেও সে তাদের বাড়ীতে নিয়ে আসা বন্ধ করেনি। বরং প্রায়ই তাকে বলতো একরাত ওদের সাথে থাকার জন্য।

ঘটনারদিন স্বামী হেলাল ফকির ইচ্ছে করে এবং মূলধর্ষকও তার সহযোগীদের সাথে পরামর্শ করে রাতে গভীর ঘুমের নাটক করেছে। তাছারা সে যখন ধর্ষনের শিকার হয় তখন তার স্বামী ঘটনাস্থলে গেলে তাকে অনুরোধ করার পরেও সে ধর্ষনে বাধা না দিয়ে আবার বিছানায় শুয়ে পরে। তিনি আরো জানান, এই ধর্ষন তার স্বামীর পূর্বপরিকল্পিত।

ওই গৃহবধু বলেন, আমি আমার স্বামীসহ সকলের দৃস্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

স্থানীয় যুবক ফরহাদ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত হেলাল ফকির কিছুদিন পূর্বে তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর দুধ দিয়ে গোসল করেছিলো। সে ঘটনার ভিডিও ও সংবাদ অনেক গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছিলো। পরে বর্তমান স্ত্রীকে তিনি পুনরায় বিয়ে করেন।

আমরা এই পরিকল্পিত ধর্ষনের বিষয়টি জানার পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত স্বামী ও এক সহযোগীকে আটক করে পুলিশে দেয়। এই ঘটনাটি বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃস্টি করেছে। সবাই পাষন্ড স্বামী ও সহযোগীসহ ধর্ষকের বিচার দাবি করছে।

এব্যাপারে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. ফারুক খান বলেন, গত শুক্রবার রাতে এঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে প্রধান অভিযুক্ত ধর্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভিকটিম ওই গৃহবধুর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। আজ শনিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীকে বরগুনা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here