নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের সাম্প্রতিক সহিংস সংঘর্ষের পর অস্থির ও আতঙ্কিত সময় পার করছে এলাকাবাসী।
পাল্টাপাল্টি মামলা, গ্রেপ্তার ভয়- ভীতি আর আতঙ্কে পুরুষশূন্য এবং অনিশ্চয়তার কারণে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় পুরো গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
কেউ চলে যাচ্ছে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে কেউ চলে গেছে গন্তব্যহীন অজানার পথে। ধূসর মরুভূমির পরিনত হয়েছে পুরো এলাকা জুড়ে। এতে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে এবং নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর নেমে এসেছে টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,গত ২৪ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ২ জন নিহত, পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক জনের মৃত্যু এনিয়ে ৩ জন নিহত ও শতাধিক আহতের ফলে এলাকায় এখন গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় বাড়ির ভেতরে থাকা লোকজনও রক্ষা পাননি এবং আতঙ্কে অনেক পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।
এ সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত, অন্তত শতাধিক আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এরই মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাফাজুল ইসলাম (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়। আরো এক জনের আশংকাজনক অবস্থা ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সহিংস ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার ও মামলার আতঙ্ক পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ, উপার্জন, বাজার করা, চিকিৎসা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন নারীদের কাঁধে এসে পড়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে। শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং বৃদ্ধরা চিকিৎসাসহ নানা সেবাবঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে এবং এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে গোয়ালনগর গ্রামজুড়ে নীরবতা, আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

