
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিজের দাবি করে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক চিহ্নিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে শনিবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান বাবুকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মুসল্লীপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে মৃত নাইবালীর স্ত্রী মোছাঃ মনোয়ারা বেগম ও মোঃ শামসুল হকের স্ত্রী মোছাঃ মোমেলা বেগম বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দুটি নিজের দাবি করেন মাহমুদুল হাসান বাবু। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার বিকেলে মাহমুদুল হাসান বাবু ও তার ছেলে হারুন দেশীয় অস্ত্র রামদা ও কুড়াল নিয়ে মুসল্লীপাড়া আশ্রয়ণে গিয়ে ঘরে হামলার চেষ্টা করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
অভিযোগের ভিত্তিতে নামাজের চর পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে মাহমুদুল হাসান বাবুকে একটি কুড়ালসহ গ্রেফতার করে। পরে তাকে উলিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সময় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অভিযুক্তের ছেলে হারুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকির ভিডিও পোস্ট করে। তারা আরও জানান, মাহমুদুল হাসান বাবু ও তার ছেলে হারুন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত তারা। বাবু গ্রেফতার হলেও তার ছেলে হারুন পলাতক রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাকে দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ মনোয়ারা বেগম ও মোছাঃ মোমেলা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই আশ্রয়ণের ঘরে বসবাস করছি। হঠাৎ করে বাবু এই জমি তার দাবি করে আমাদের সরে যেতে বলে। শুক্রবার বিকেলে রামদা ও কুড়াল নিয়ে তারা হামলা করতে আসে।
নামাজের চর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আটক করে উলিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
