নাটোর প্রতিনিধি :
বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা একমাত্র মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রায় ৩৩ বছর আগে ১৯৯৩ সালে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বাবা ফজলুর রহমান পটল। এবার একই দায়িত্ব পেলেন তার মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল। পাশাপাশি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।
ফারজানা পুতুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ডাক পান মন্ত্রিসভায়।
গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বুধবার তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবস কাটিয়েছেন।
প্রথম দিন অফিস করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
তিনি তার পোস্টে লেখেন, আজ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন। দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে যে অফিসে বসে আব্বু দেশের জন্য কাজ করেছিলেন, আজ আমি সেই একই অফিসে বসে দেশের জন্য কাজ করতে যাচ্ছি।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, দিন-রাতে এমন কোনো মুহূর্ত নেই যখন আমার বাবা আমার সঙ্গে থাকেন না। আজ অফিসে বসে পাশের বোর্ডের ৬ নম্বর তালিকায় আব্বুর নামের দিকে যতবার চোখ পড়েছে, মনে হয়েছে আব্বু আমাকে বলছেন, আমি তোমার জন্য এখানে অপেক্ষা করছিলাম।
জানা গেছে, প্রয়াত ফজলুর রহমান নাটোর-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সামাজকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের মানুষের কাছে কিংবদন্তি নেতা। এবার ফারজানা নির্বাচনে জেতার পেছনে তার বাবা ফজলুর রহমানের জনপ্রিয়তা অনেকটা প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯৩ সালে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে চারবার এমপি হওয়া পটল দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট মারা যান।
এদিকে ত্রয়োদশ নির্বাচনে জয় পাওয়া সহজ ছিল না ফারজানা শারমিনের। তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বড় ভাই ইয়াসির আরশাদ ও বিএনপির সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। শেষ মুহূর্তে ভাই নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও নিজ দলের বহিষ্কৃত নেতা তাইফুল ইসলামের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি পেশায় হাইকোর্টের একজন আইনজীবী। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিলেও তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তবে ২০১৬ সালে বাবা ফজলুর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সর্বশেষ তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন।
৪১ বছর বয়সি এই সংসদ সদস্যের মা কামরুন নাহার ঢাকার একটি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপন করছেন। এর আগে তিনিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে তিনি হেরে যান।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

