ঝিনাইগাতিতে শীতের আগমনী বার্তা, হেমন্তের দরজায় কড়া নাড়ছে শীত

0
180
ফাইল ফুটেজ

আল আমিন, স্টাফ রিপোর্টার :

‎শেরপুরের সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি উপজেলা ঝিনাইগাতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের হিমেল হাওয়া। হিমালয়ের পর্বতমালা থেকে বয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস আর সকালের ঘন কুয়াশা যেন প্রকৃতির বুকে বাজিয়ে তুলেছে শীতের আগমনী সুর। ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া, ভোরের আলোয় ভেজা পত্রপল্লব আর শিশির বিন্দু জানিয়ে দিচ্ছে—শীতের আগমন আসন্ন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

‎গত কয়েকদিন ধরেই ভোরবেলা ঝিনাইগাতির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে হালকা থেকে মাঝারি ঘন কুয়াশা। ভোরের ঘন কুয়াশায় স্থানীয় সড়কগুলো ঢেকে যাচ্ছে সাদা চাদরে। গাছের পাতা ও ঘাসের ওপর জমে থাকা শিশির বিন্দু সূর্যের আলোয় ঝলমল করে যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করছে।

‎দিনের বেলায় রোদের মিষ্টি উষ্ণতা মানুষকে আরাম দিচ্ছে ঠিকই, তবে রাতের হিমেল বাতাস আর ভোরের কুয়াশা শীতের আমেজকে স্পষ্ট করে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন আগেও আবহাওয়ায় এমন ঠাণ্ডা ভাব ছিল না, কিন্তু হঠাৎ করেই রাতের দিকে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে।

‎ঝিনাইগাতির সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঠাণ্ডা বাতাস স্থানীয় জনজীবনে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। ভোরবেলা খেত-খামারে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা এখন গায়ে চাদর বা গামছা জড়িয়ে বের হচ্ছেন। শিশুরা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় হালকা শীতের পোশাক পরছে।

‎বিদেশি পাখির আগমন
‎শীতের শুরুতে ঝিনাইগাতির আকাশে ও জলাশয়ে দেখা মিলছে নানা প্রজাতির বিদেশি পাখি। ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে উড়তে দেখা যায় বুনো হাঁস, চখাচখি, পাতিহাঁস, বালিহাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। দূর উত্তর গোলার্ধ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এইসব পাখি বাংলাদেশের উষ্ণ আবহাওয়া ও জলাশয়ে আশ্রয় নেয়।

 



‎প্রতিদিন ভোরে এসব পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে নদী, বিল ও হাওড়ের আশপাশ। স্থানীয়রা বলেন, পাখিদের আগমনে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। অনেকেই ভোরে পাখি দেখতে বের হন, কেউ কেউ ছবি তুলতেও আসেন।

‎আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ দিক থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের আগমন ধীরে ধীরে শুরু হয়। শেরপুরের ঝিনাইগাতি এলাকা হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এখানে শীতের প্রভাব তুলনামূলক আগে অনুভূত হয়।

‎স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শীতের শুরুটা তারা উপভোগ করছেন। সকালে কুয়াশা ভেজা পথ ধরে হাঁটতে বের হওয়া, পুকুরপাড়ে বসে গরম চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া আর পাখির কলকাকলিতে মুগ্ধ হওয়া—সব মিলিয়ে ঝিনাইগাতিতে এখন এক অন্যরকম পরিবেশ বিরাজ করছে।

‎সব মিলিয়ে, ঝিনাইগাতিতে শুরু হয়েছে শীতের গল্প—যেখানে কুয়াশা, শিশির, হিমেল হাওয়া আর বিদেশি পাখির আগমন মিলে সৃষ্টি করেছে এক মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যপট।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here