কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তিস্তাপারের চরাঞ্চলে এবার ভোটারদের মুখে একই সুর–“হামার তিস্তা নদী যাই বাঁধি দিবো, হামরা তাকে ভোট দিমু।” দীর্ঘদিনের নদীভাঙন ও বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে এই এলাকায় মানুষের চাওয়া একটাই– তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও স্থায়ী নদীশাসন।
উলিপুর উপজেলার বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষ মূলত কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তিস্তা নদীর করাল গ্রাসের কারণে প্রতিবছরই তারা ফসল, বসতভিটা ও জীবিকার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিশোরপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল বারী (৬০) বলেন, তার বাড়ি তিনবার নদী ভেঙেছে, এখন ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। আর ৭৫ বছর বয়সী মোঃ আব্দুল আজিজ ২০ বছর ধরে বারবার নদী ভাঙনের কারণে এক চর থেকে অন্য চরে যাযাবর জীবনযাপন করছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সরেজমিন দেখা গেছে, ভোটাররা দীর্ঘদিন ভোটে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও এবার উৎসাহিত। তবে অভিযোগও কম নয়; তারা বলেন, নিয়মিত খাজনা দিলেও দুর্যোগের সময় সরকারি সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায় না।
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার একটি একক আসন নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩। এখানকার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০, যার একটি বড় অংশই চরাঞ্চলের বাসিন্দা। এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মোঃ তাসভীর-উল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার মোঃ মাহবুবুর আলম ছালেহী, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ আব্দুস সোবাহান, হাতপাখা প্রতীকে ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী সরকার, ট্রাক প্রতীকে সরকার মোঃ নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ও হাঁস প্রতীকে এডভোকেট মোঃ শাফিউর রহমান।
ভোটারদের দৃঢ় প্রত্যাশা– যেই প্রার্থী নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিবে, তারই কণ্ঠে তাদের ভোট।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

