বরিশাল ব্যুরো :
একসময় ঝালকাঠি জেলা নিরঙ্কুশভাবে বিএনপির ‘ধানের শীষের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই রাজনৈতিক চিত্রে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, নতুন জোটের সক্রিয়তা এবং তরুণ ভোটারদের প্রভাব—সব মিলিয়ে ঝালকাঠির দুই সংসদীয় আসনে নতুন করে নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যেখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছে জামায়াতে ইসলামী।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনো সামগ্রিকভাবে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এবারের নির্বাচনে জামায়াত আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত ও দৃশ্যমান। বিশেষ করে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত অন্তত চারজন প্রভাবশালী নেতা প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে না থাকায় তাদের অনুসারীদের ভোট ধানের শীষে যাবে কি না—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ঝালকাঠি জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ ভোটার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তই এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔹 ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক। ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ইব্রাহীম আল হাদীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচিত হলে তিনি বেড়িবাঁধ নির্মাণ, হাসপাতাল স্থাপন, সড়ক উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অন্যদিকে ড. ফয়জুল হক বলেন, জনগণ চাঁদাবাজি ও মামলাবাজ রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। তার মতে, নতুন বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার বিজয় সময়ের দাবি।
🔹 ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং জামায়াতের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ইলেন ভুট্টো ২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অপরদিকে শেখ নেয়ামুল করিম বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস হিসেবে পরিচিত।
এ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী শেখ জামাল হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন। পাশাপাশি এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের একাংশের নেতারাও জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম। মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থীর সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার উপস্থিতিতে ভোট বিভাজন হলে জামায়াতের প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারেন।
সব মিলিয়ে ঝালকাঠির দুই আসনেই এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিনের একক রাজনৈতিক আধিপত্যের জায়গায় এবার স্পষ্ট হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পরিবর্তিত সমীকরণ।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

