গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) গবেষণা ও উদ্ভাবনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর অফিস (টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে “মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, উদ্ভাবন ছড়িয়ে দেওয়া ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের লক্ষ্যে গাকৃবিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর অফিস প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ কর্মশালাটি হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অর্থায়নে এবং উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক।
অনুষ্ঠানে রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পেটেন্টস, ডিজাইনস অ্যান্ড ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (পেটেন্টস) মোঃ হাবিবুর রহমান। তিনি মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়া এবং গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনকে আইনগতভাবে সুরক্ষা দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারে রূপান্তরের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ছাড়াও গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এরপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। তিনি প্রযুক্তি হস্তান্তর অফিসের লক্ষ্য, কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপনা শেষে ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং প্রকল্পটির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও গাকৃবির গবেষণাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“গবেষণা শুধু গবেষণাগার বা জার্নালে সীমাবদ্ধ থাকলে তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না। গবেষণার প্রকৃত শক্তি তখনই প্রকাশ পায়, যখন তা কৃষকের মাঠে, উদ্যোক্তার উদ্যোগে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। প্রযুক্তি হস্তান্তর অফিস এই সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
কর্মশালাটি গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

