
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
নারীদের প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র অবস্থান নিয়ে ছড়ানো নেতিবাচক প্রচারণাকে অপপ্রচার ও ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন কুড়িগ্রামের নারী সমর্থকরা। তারা জানান, বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে তারা প্রভাবিত নন; বরং এবার জামায়াতকে ভোট দিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। সকাল থেকেই সভাস্থলে জনসমাগম শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নারী উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে মাঠের পূর্ব অংশে হাজারো নারীর সমাবেশ ঘটে, যা কুড়িগ্রামে জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতে নারীদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে আসা গৃহবধূ মোছা নুড়িকা বলেন, “অনেক দলকেই আগে দেখেছি। এবার ইসলামী দল হিসেবে জামায়াতকে ভোট দিয়ে দেখতে চাই। আল্লাহ চাইলে জামায়াত ক্ষমতায় আসবে।” তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে জামায়াতের প্রতিই তার আস্থা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
জামায়াত আমীরের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম সদরের এক নারী শিক্ষার্থী জ্যোতি বলেন, “ওসব ভুয়া প্রচারণা। আমরা বিশ্বাস করি না। জামায়াত এ ধরনের কাজ করে না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছড়ানো হচ্ছে।”
রাজারহাট উপজেলা থেকে আসা গৃহবধূ মোছা খাদিজা আক্তার বলেন, “গুজব ছড়িয়ে লাভ নেই। আমরা এবার জামায়াতকে দেখতে চাই। যদি তারা প্রত্যাশা পূরণ না করে, তাহলে প্রত্যাখ্যান করার অধিকারও আমাদের আছে।”

সমাবেশে অংশ নেওয়া নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামায়াত নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তার ওপর তারা আস্থা রাখতে চান। বিরোধী পক্ষের সমালোচনা ও নেতিবাচক প্রচারণা তাদের বিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে জানান তারা।
ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে আগত গৃহবধূ মোছা উম্মে কুলসুম বলেন, “নিভে যাওয়া আগুন বাতাসে নিভে যায়, কিন্তু জ্বলন্ত আগুন আরও শক্ত হয়। জামায়াত সেই জ্বলন্ত আগুন। আমরা জেনে-বুঝেই তাদের সমর্থন দিচ্ছি।”
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমীর ডা. শফিকুর রহমান জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “মায়েদের অবদান ভোলার নয়। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে তারা স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।”
নারীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের আবাসস্থল, রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র—সব জায়গায় নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। এই দেশে আর কোনো জুলুম বা জমিদারি চলবে না।”
সভা শেষে নারীরা আলাদা পথে সুশৃঙ্খলভাবে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
