ভোটাধিকার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ দায়িত্ব বোধের পরিচয় দিন: জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম

0
60
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম / ছবি - এই বাংলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও বিবেকবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রাষ্ট্রের একটি আমানত, এই আমানতের সঙ্গে কোনো ধরনের অসততা সহ্য করা হবে না।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, কেউ যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, প্রশাসন তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, লক্ষ্য হচ্ছে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সিসিটিভি ক্যামেরা, সুরক্ষা অ্যাপ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রশাসন নিশ্চিত করবে, তবে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন—সে পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও কর্মকর্তাদের।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

জেলা প্রশাসক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু একটি নির্বাচন নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, যেখানে ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত মত বা অনুভূতি থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় তা প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যেককে নিজ নিজ বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে।

গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সঠিকভাবে অবহিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের প্রশ্নের উত্তরে ‘আমি জানি না’—এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্ব মানেই বিষয়টি ভালোভাবে জেনে ভোটারকে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বলা।

তিনি বলেন, অতীতের নেতিবাচক ধারণা দূর করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের এটিই সময়। জনগণ ও রাষ্ট্র—দুটোর প্রত্যাশাই এক, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৯২টি ভোটকেন্দ্রের জন্য দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে ৯২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ২২০ জন পোলিং অফিসার অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ভোটগ্রহণ আইন ও বিধিমালা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, গণভোট পরিচালনা, ভোটার সহায়তা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here