জীবন দেবো, তবু মায়ের সম্মান নিয়ে কাউকে খেলতে দেবো না: ডা. শফিকুর রহমান

0
54
গাজীপুরে ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় জামায়াত আমীর / ছবি - এই বাংলা

গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বৃহৎ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ন্যায়বিচার, শ্রমিকের অধিকার ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “মায়ের সম্মান রক্ষায় আমরা আপসহীন। যারা নারীর মর্যাদা লঙ্ঘন করবে, জনগণ তাদের কোনোভাবেই মেনে নেবে না।” তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসের আন্দোলন কোনো সাময়িক দাবি বা ভাতা আদায়ের জন্য নয়, বরং এটি ছিল ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গণআন্দোলন। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-যুবক ও নারীরা বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যাশা নিয়ে রাজপথে নেমেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আ স ম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যয়নুল আবেদীন, ঢাকা উত্তর জামায়াতের অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মপরিবেশে ঘাটতি রয়েছে। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে গাজীপুরকে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে নারী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, একই কাজের জন্য কম মজুরি দেওয়ার অনুশীলন বন্ধ করা হবে।

নারীর মর্যাদা ও মাতৃত্ব সুরক্ষার বিষয়ে তিনি জানান, সন্তান গর্ভে আসার পর থেকে জন্ম ও লালন-পালনের প্রাথমিক সময় পর্যন্ত নারীদের দৈনিক কর্মঘণ্টা সীমিত করার পাশাপাশি বাকি সময়ের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গাজীপুর জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “ইনসাফ মানে সবাইকে এক রকম করা নয়; বরং যার যত অবদান, তাকে তার ন্যায্য প্রাপ্য দেওয়া।”

রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, একজন শ্রমিকের সন্তান মেধাবী হলে রাষ্ট্রই তার দায়িত্ব নেবে। সেই সন্তান থেকেই একদিন দেশের নেতৃত্ব উঠে আসুক—এটাই তাদের স্বপ্ন।

জনসভায় তিনি গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের জন্য ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

পুরুষদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠ পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। জনসভায় উপস্থিত মানুষের কণ্ঠে উঠে আসে অবাধ নির্বাচন, নিরাপদ সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here