বিটিসিএল কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ: মামলা হলেও নেই বিভাগীয় ব্যবস্থা

0
58
‎​সরকারী প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ / ছবি - এই বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর শেরেবাংলা নগরস্থ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কার্যালয়ে সহকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা, চাঁদাবাজি ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগে মামলা হলেও এখনো কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ মার্চ অফিস চলাকালীন সময়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি অতর্কিতভাবে বিটিসিএল কার্যালয়ে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আহামদ ফজলে রাব্বি, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের মো. জামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, জুনিয়র লাইনম্যান আব্দুস সোবহান, ওয়ার্কচার্জড কর্মচারী খায়রুল, গিয়াসসহ কয়েকজন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। অভিযোগে বলা হয়, হামলায় লোহার রড ও বাঁশের লাঠি ব্যবহার করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। এককালীন তিন লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই হামলা চালানো হয়। এ সময় অফিসের ভেতর থেকে সাড়ে ২৪ হাজার টাকা নগদ অর্থ চুরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর গত বছরের ২২ মার্চ হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর, চাঁদাবাজি, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে মুক্ত হন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বিটিসিএল সংশ্লিষ্টদের মতে, ফৌজদারি মামলার চার্জশিট থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা এখনো নিজ নিজ পদে বহাল থাকায় প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে অফিসের ভেতরে সহিংসতায় জড়ানো সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়, যার শাস্তি চাকরি থেকে অপসারণ পর্যন্ত হতে পারে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, “অফিসের ভেতরেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমরা কাজ করবো কীভাবে? আমরা এখনো হুমকির মধ্যে আছি, অথচ কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।” তারা জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আহামদ ফজলে রাব্বি বলেন, মামলার পর আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনে আছেন এবং নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। জামিনের কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে মামলার পর বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান।

অন্যদিকে, বিটিসিএল-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) রতন কুমার হালদার বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here