ডিমলায় জমি বিরোধে সংঘর্ষের আশঙ্কা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার অভিযোগ

0
55
বালাপাড়া ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পায়তারা / ছবি - এই বাংলা

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের শোভানগঞ্জ বালাপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিউল ইসলাম গং ও মজিবুল ইসলাম বাচ্চু গংয়ের মধ্যে জমি মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, নেছার বাড়ির গাছ কাটার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে আনুমানিক ২০ শতক জমির শাকসবজি মজিবুল ইসলামের পরিবারের লোকজন তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রবিউল ইসলাম আরও জানান, বিরোধীয় জমিতে আদালতের ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও প্রতিপক্ষ পেশিশক্তির মাধ্যমে সেখানে বিভিন্ন রবি ফসল আবাদ করছে। একই সঙ্গে অন্য একটি খণ্ডে ১৫ শতক জমিতে আমন ধান রোপণ করলেও ভয়-ভীতির কারণে তা কাটতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে রবিউল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট জমিটি এসএ খতিয়ান, বিএস খতিয়ান ও হাল খতিয়ান অনুযায়ী মোট ১০১ শতক জমির অংশ, যা ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে তার পিতা মৃত হাছির উদ্দিন ও হোছেন আলীর কাছ থেকে দলিলমূলে ক্রয় করা হয়। পরে হোছেন আলীর ওয়ারিশরা জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নীলফামারী বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমআর মামলা দায়ের হলে আদালত ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর মজিবুল ইসলাম বাচ্চু ও তার স্বজনরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে অবৈধভাবে দখল করে একটি ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ৩ নভেম্বর ডিমলা থানা পুলিশ অবৈধ স্থাপনা ক্রোকের উদ্যোগ নিলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয় এবং পুলিশের ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পুনরায় অভিযান পরিচালনার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করে।

রবিউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ১০৭/১১৭ ধারার মামলা আদালত চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি খারিজ করে দেন বলে জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, বর্তমানে প্রতিপক্ষ অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মজিবুল ইসলাম গংয়ের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ওই জমির মালিক তারা এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here