অবৈধ বালু উত্তোলনে মৃত্যুকূপ মনু নদী, কটারকোনা সেতু চরম ঝুঁকিতে

0
231
কুলাউড়ার মনু নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন / ছবি - এই বাংলা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় নদী শাসন আইন উপেক্ষা করে মনু নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা সেতু সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে খনন করা গভীর গর্তে ডুবে নাঈম হোসেন (১৭) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সেতু এলাকায় গোসল করতে নেমে নাঈম নদীতে সৃষ্ট বিশাল গর্তে তলিয়ে যান। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাঈম কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর কানাইদেশী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে এবং একটি কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মনু নদীর ওই অংশে ড্রেজার মেশিন ও ট্রলার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর বুকে তৈরি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর গর্ত, যা এলাকাবাসীর কাছে ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরই এসব গর্তে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় নদীতীরবর্তী এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্রাহ্মণবাজার–শমসেরনগর সড়কের ওপর নির্মিত কটারকোনা সেতু। সেতুর পিলারের চারপাশের বালু ও মাটি সরে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর শনিবার (২৪ জানুয়ারি) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে কটারকোনা সেতু এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে পাঁচটি ড্রেজার মেশিন, দুটি ট্রলারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এগুলো হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এর আগে একই বালুমহালের ইজারাদারকে একাধিক অভিযানে প্রায় চার লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপি ও তার সহযোগীরা ইজারা শর্ত ভেঙে সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করছেন, যা নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। ফলে হাজীপুর ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের মানুষের জীবন ও অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে মনু বালুমহাল ইজারা বাতিলের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পায়েল বলেন, নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here