নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর নির্মাণাধীন ও আংশিক নির্মিত ভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ওয়াসা, রাজউক এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো ধরনের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
রিহ্যাবের দায়ের করা রিট পিটিশন (রিট পিটিশন নং–২১১৭১/২০২৫) এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এই আদেশ দেন।
রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয় যে, নির্মাণাধীন কিংবা আংশিকভাবে সম্পন্ন ভবনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন এই আদেশ প্রদান করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো কোনো ধরনের বিদ্যুৎ লাইন, পানির সংযোগ কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা বন্ধ করতে পারবে না এবং বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে।
এই আদেশের ফলে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও ডেভেলপাররা তাৎক্ষণিক ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যে সংকট তৈরি হয়, আদালত তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসি ও অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবনের প্রায় ১২০০টির বেশি বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর ফলে বহু নির্মাণ প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বেকার হয়ে পড়েন, ফ্ল্যাট হস্তান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং ডেভেলপাররা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
এছাড়া ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা এবং নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতার মতো জটিলতা তৈরি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেই রিহ্যাব আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

