বরিশাল ব্যুরো :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা)। জোট রাজনীতি, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ের অসন্তোষ মিলিয়ে এই আসনটি এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের জোট সমঝোতায় এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তবে জোটের সিদ্ধান্ত থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তাঁর পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামেননি। এতে শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জোটপ্রার্থী নুর।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে জোট গঠনের ফলে বিএনপি আসনটি ছেড়ে দিলে সেখানে প্রার্থী হন নুরুল হক নুর। এতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
দলীয় মনোনয়ন না পেলেও হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। ফলে জোটপ্রার্থী নুর স্থানীয় বিএনপির পূর্ণ সাংগঠনিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ কেউ ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি করছেন, যা জোট রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় দলকে সংগঠিত করেছেন হাসান মামুন। অতীতে বাইরের প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার ফল ভালো হয়নি—এই অভিজ্ঞতা থেকেই তারা তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলায় একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে দশমিনা উপজেলায় একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় সেখানে হাসান মামুন তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এদিকে গত ১০ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা জোটপ্রার্থী নুরের পক্ষে প্রচারে নামায় নির্বাচনী পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল বিএনপির সক্রিয় সমর্থন নিশ্চিত না হলে এই আসনে জোটপ্রার্থী নুরুল হক নুরের বিজয় অর্জন কঠিন হতে পারে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

