৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ ‘রাষ্ট্র সবার’

0
65
রাজনৈতিক পালাবদলের নতুন অধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ / ছবি - এই বাংলা

রাজশাহী ব্যুরো :

 

বাংলাদেশ আবার একটি রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন এবং ক্ষমতার পালাবদলের পর এই নতুন সরকার শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সামনে এক নতুন পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বোঝা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে,যা তাদের দ্রুত নীতি-সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি দায়িত্বও উল্লেখ যোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করেছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদ শেষে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা নিজেই নাটকীয়। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে নির্বাচনে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ তাকে দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তার বিজয় বক্তৃতায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান এবং প্রতিশোধমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।​

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দীর্ঘ ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ​১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর থেকে গত সাড়ে তিন দশক ধরে বাংলাদেশের শাসনভার মূলত দুই নারী নেত্রী—বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার হাতে ছিল। সর্বশেষ নির্বাচিত পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ (১৯৮৯-১৯৯০)। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে তারেক রহমান এই ধারায় পরিবর্তন আনলেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

​বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীগণের নাম সময়কাল রাজনৈতিক দল: তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭১ – ১৯৭২ আওয়ামী লীগ
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ – ১৯৭৫ আওয়ামী লীগ
খালেদা জিয়া ১৯৯১-৯৬, ২০০১-০৬ বিএনপি
শেখ হাসিনা ১৯৯৬-০১,২০০৯-২৪ আওয়ামী লীগ
বর্তমানে তারেক রহমান ২০২৬ – বর্তমান বিএনপি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র।​জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৫।​রাজনীতি: ১৯৯১ সালে বগুড়া থেকে যাত্রা শুরু। ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন।​২০২৬ নির্বাচন: ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত। তার নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

​পরিবার: স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান।

​নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ও চমক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও তরুণ প্রজন্মের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন।​উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ দীর্ঘ সময় পর এই পদটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জ্যেষ্ঠ উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

মন্ত্রিসভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

​প্রশাসনিক সংস্কার কাজের গতি বাড়াতে বড় মন্ত্রণালয়গুলোকে ভেঙে ছোট ও কার্যকর করা হয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ৩১ দফা’ বাস্তবায়ন নতুন সরকার তাদের ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।​দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ আইনসভাকে শক্তিশালী করতে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ গঠনের উদ্যোগ।

​ক্ষমতার ভারসাম্য প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সংসদের মধ্যে ভারসাম্য আনা। কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

​রেনবো নেশন (Rainbow Nation): ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়া।শিক্ষিত বেকারদের জন্য ‘বেকার ভাতা’ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা।​সবার সাথে বন্ধুত্ব,কারো সাথে বৈরিতা নয়।

জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ ‘রাষ্ট্র সবার’ ​১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন ​দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে এই দেশ আমাদের সবার। আমরা কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের লক্ষ্য একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।​তিনি বিশেষ করে দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’, মাদক ও জুয়া নির্মূল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এবং নতুন সরকারের সংস্কারমুখী পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও জবাবদিহি মূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করার পথে বড় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা উভয়ই বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন,যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি,সবার অধিকার সমান। তিনি বলেন, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার,রাষ্ট্র সবার।

​একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের অধিকার সমান।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​নতুন সরকারের এই পথচলায় দেশবাসীর সহযোগিতা এবং ধৈর্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শেষ করেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here