নাসরিন আক্তার :
নবগঠিত বর্তমান সরকার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিশাল জনসমর্থন নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের উন্নয়নের জন্য নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
কিন্তু এলজিইডির মাঠ পর্যায়ে তদারকির লোকবল না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম মুখথুবড়ে পড়ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২০১৮ সালের সাংগঠনিক কাঠামোর এলজিইডি হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে সহায়ক যা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বর্তমানে এলজিইডির প্রকল্পের সংখ্যা আনুমানিক ১২৭ টি। ইহার কার্যক্রম সমগ্র দেশব্যাপী। এত বৃহত্তর কাজের জন্য যে পরিমান জনবল বর্তমানে প্রয়োজন, সে তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে জানা যায়।
এলজিইডির ২০১৮ইং সনে প্রকল্পের সংখ্যা বিবেচনা করে সাংগঠিক কাঠামোর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পদ-পদবীর সংখ্যা নির্দ্ধারণ ছিল, তাতে প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১)-০১ জন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩)-১৫ জন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (গ্রেড-৪)-৩৯ জন, নির্বাহী প্রকৌশলী (গ্রেড-৫)-১৫৮ জন। ২০১৮ সনের সাংগঠিক কাঠামোর তুলনায় ইহার কার্যক্রম প্রায় তিনগুণ।
কিন্তু সংস্থাপন বা সাংগঠনিক কাঠামোর সংশোধন না করায় মাঠ পর্যায়ে ১২৭টি প্রকল্পের কাজের গুণগতমান পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) দিয়ে কাজ চালাচ্ছে সরকার। ইহাতে মাঠ প্রশাসন ভেঙ্গে পড়েছে এবং দুর্নীতির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। প্রধান প্রকৌশলীর (গ্রেড-১)-১টি স্থায়ী পদ শুন্য। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩)-১৫টি স্থায়ী পদ। আছেন ১জন। ১৪টি পদ শুন্য। ২০১৮ সনের সাংগঠনিক কাঠামো মোতাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (গ্রেড-৪)-৩৯টি স্থায়ী পদ। বর্তমানে ৫জন আছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আছেন ২৪জন। তারপরেও ৩৯-২৯=১০জন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শুন্য রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এলজিইডির চলমান ১২৭ প্রকল্পের জন্য প্রকল্প পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলীর পদমর্যাদার উপ-প্রকল্প পরিচালক ডিপুটেশনে নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে, ৮টি বিভাগীয় শহর, ২০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রতিটিতে ২জন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ শুন্য থাকায় মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের এবং জিওবির কাজের সুষ্ঠভাবে তদারকি করা সম্ভব হয়ে না উঠায় মাঠ পর্যায়ে কাজের গুণগতমান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী ও সমমানের মাঠ পর্যায়ে ও সদর দপ্তরের প্রায় ২০০ টি পথ শূন্য। এলজিইডি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিবারের এলজিইডি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। মাঠ পর্যায়ে থেকে সদর দপ্তরের সবচাইতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে নির্বাহী প্রকৌশলী ও সমমানের কর্মকর্তাগণ অথচ এই পদে দীর্ঘদিন যাবত প্রায় ২০০ টি পথ শূন্য রয়েছে এতে মাঠ পর্যায়ে কাজের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সেই সাথে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অগ্রগতি বাস্তবায়ন হুমকির মধ্যে পড়বে। তাই সরকারের উচিত যথাশীঘ্র এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে অন্ততঃ চলতি দায়িত্ব দিয়ে মাঠ পর্যায়ে উন্নয়নের কার্যক্রম গতিশীল রাখা।
প্রসংগত নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দিলে সরকারের আর্থিক সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে উন্নয়নের কার্যক্রম গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ঠদের অভিমত।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

