বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে আগারগাঁও ও বাড্ডায় ‘মুক্তি তোরণ’ ও ‘স্বাধীনতা তোরণ’ উদ্বোধন

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় মঙ্গলবার ‘স্বাধীনতা তোরণ’ উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। ছবি - সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক :


জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নাগরিক চেতনা জাগ্রত রাখার লক্ষ্যে রাজধানীতে ‘মুক্তি তোরণ’ ও ‘স্বাধীনতা তোরণ’ নামে দুটি স্থাপনা উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ সড়কে ‘মুক্তি তোরণ’ এবং বাড্ডার বৌদ্ধমন্দিরের সামনে ‘স্বাধীনতা তোরণ’ উদ্বোধন করা হয়।

আগারগাঁওয়ে ‘মুক্তি তোরণ’ উদ্বোধন শেষে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “এসব তোরণ আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে। সে আন্দোলনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। শহরের সৌন্দর্য ও ইতিহাসকে একত্রে ধারণ করতেই এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যেভাবে আমরা অন্যায় ও জুলুমকারীদের দেশ থেকে উৎখাত করেছি, সেভাবেই আমাদের শহর থেকেও অন্যায়, বিশৃঙ্খলা ও নোংরামি দূর করতে হবে। শহরকে অপরিচ্ছন্ন রাখা, ব্যানার-পোস্টারে ঢেকে ফেলা কিংবা সবুজ ধ্বংস করা—এসবও একধরনের জুলুম। এসব থেকে শহরকে রক্ষা করাই এখন আমাদের দায়িত্ব।”

বাড্ডায় ‘স্বাধীনতা তোরণ’ উদ্বোধনের সময় প্রশাসক এজাজ বলেন, “এই এলাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলনে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের সেই সংগ্রামকে স্মরণ ও সম্মান জানাতেই এখানে স্বাধীনতা তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দীন, অঞ্চল–৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলকার নায়ন, অঞ্চল–৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেকুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়