বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক মানের করতে বিদেশি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন: নৌপরিবহন উপদেষ্টা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন / ছবি : এই বাংলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করতে বিদেশি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। তিনি আজ (১০ নভেম্বর) সকালে পতেঙ্গার লালদিয়ার চর কন্টেইনার ইয়ার্ড উদ্বোধনকালে এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানসহ বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

উপদেষ্টা বলেন, “বন্দর উন্নয়নে প্রযুক্তি, অর্থ ও দক্ষতা অপরিহার্য। উন্নত দেশের বেশিরভাগ বন্দর অপারেটররা চালাচ্ছে। আমরা কেন পিছিয়ে যাব?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, লালদিয়ার চর টার্মিনাল ১৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এবং এতে ১৫০০ ট্রাক রাখার সুবিধা রয়েছে। হেভি লিফট কার্গো জেটি ব্যাকআপ ৮ একর এলাকায়, এবং এপিএম টার্মিনাল এরিয়া ১০ একর। ১০ হাজার কনটেইনার রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

বন্দর ট্যারিফ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ট্যারিফ বাড়ানোর আগে ব্যবসায়ীসহ সব স্টেকহোল্ডার এবং শ্রমিকদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালের ট্যারিফে ৪০ বছর ধরে বন্দর চলছিল, এবং সম্প্রতি হালনাগাদ হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে।”

উপদেষ্টা আরও লালদিয়ার চর টার্মিনাল, তালতলা কনটেইনার ইয়ার্ড, এক্সওয়াই শেড ও কাস্টমস অকশন শেড পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, নতুন টার্মিনাল ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করবে এবং বন্দরের কার্যক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়