মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
এনবিআর ভবন | ছবি - সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

শুক্রবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯০ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।

এটি এ যাবৎকালে যে কোনো অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সর্বোচ্চ সংগ্রহও।

আর বর্তমান অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। এই পরিমাণ ও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম তিন মাসের মোট রাজস্ব ছিল ৭৫ হাজার ৫৫৪ দশমিক ৭৮ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৬ হাজার ৬৮ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।

জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকে তিনটি প্রধান রাজস্ব সংগ্রহ খাতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো হল-স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট, আয়কর ও ভ্রমণ কর এবং আমদানি-রফতানি।

স্থানীয় পর্যায়ের ভ্যাট থেকে সর্বোচ্চ রাজস্ব এসেছে ৩৪ হাজা ৮১৯ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ হাজার ৮৩৮ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা। এ খাতে ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে এই খাতে রাজস্ব ছিল ২৮ হাজার ৪৪৫ দশমিক ৪১ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৬৫ কোটি টাকা।

আয়কর ও ভ্রমণকর থেকে আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৮০ দশমিক ৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে বেড়েছে ১৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আমদানি ও রফতানি বিভাগ থেকে আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে সংগ্রহ হয়েছিল ২৪ হাজার ৬২৫ দশমিক ৪৭ কোটি টাকা। এই খাতেও রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এনবিআর জানিয়েছে, এই প্রবৃদ্ধি তাদের দক্ষ ও পরিশ্রমী কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতে কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও সঠিকভাবে আদায়, কর ফাঁকি রোধকল্পে এবং ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র : বাসস

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়