বিশেষ প্রতিনিধি :
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মেগাদল বাজার এলাকা জুড়ে আগাম বরবটি চাষে দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলন। এ অঞ্চলের পাহাড়ি ও সমতল জমিতে আশানুরূপ ফলন পেয়ে কৃষকেরা দারুণভাবে উৎসাহিত হয়েছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
চাষিরা জানাচ্ছেন, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশকের সঠিক প্রয়োগ এবং সময়মতো পরিচর্যার ফলে এ বছর বরবটির ফলন আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
মেগাদল বাজার ও আশপাশের পাহাড়তলি এলাকায় এখন চোখে পড়ে সবুজে মোড়া বরবটির ক্ষেত। গাছে ঝুলছে লম্বা, তাজা ও কোমল বরবটি। ভোর থেকেই কৃষকেরা ক্ষেত থেকে বরবটি তুলে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে সকাল থেকেই চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
কৃষক মো. আব্দুল জলিল বলেন,
“গতবারের তুলনায় এবার ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে প্রচুর ফল এসেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বরবটি ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খরচ বাদেও ভালো লাভ হচ্ছে।”
আরেক চাষি রফিকুল ইসলাম জানান,
“আগাম বরবটি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও লাভজনক। শুরুতে খরচ বেশি, কিন্তু ফলন ভালো হলে সব উঠে আসে। এবার যে ফলন পেয়েছি তাতে আগের ক্ষতির চিন্তা নেই।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,
“শ্রীবরদীর পাহাড়ি ও সমতল মাটি বরবটি চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর কয়েকশো একর জমিতে আগাম বরবটি চাষ হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেতেই ফলন ভালো। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী মৌসুমে চাষ আরও বাড়াতে আমরা কাজ করছি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান,
“প্রতিদিন সকালে কৃষকেরা তাজা বরবটি নিয়ে বাজারে আসছেন। চাহিদা বেশি থাকায় পাইকাররা এখান থেকে কিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি ফিরেছে।”
ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকেরা এখন নতুন আশায় বুক বাঁধছেন। অনেকে ইতিমধ্যে পরবর্তী মৌসুমের জমি তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এই সাফল্যে শ্রীবরদীর কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

