
বরিশাল ব্যুরো :
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বরিশালের বীর সন্তানেরা রেখেছেন অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদান। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঢাকার রাজপথ যেমন উত্তাল হয়েছিল, তেমনি বরিশালেও গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আন্দোলন। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন বরিশালের গৌরনদীর কৃতি সন্তান কাজী গোলাম মাহবুব, যিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়াও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের আরও বহু কৃতী সন্তান ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— শামসুল আলম, আবদুর রহমান চৌধুরী, আখতার উদ্দিন আহমেদ, এম ডব্লিউ লকিতুল্লাহ এবং অনিল দাস চৌধুরী। তাদের ত্যাগ, সাহস ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ভাষা আন্দোলনকে সুসংগঠিত ও বেগবান করেছিল।
ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক জাগরণেও বরিশালের অবদান ছিল গভীর। একুশের অমর সংগীত আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো–এর গীতিকার আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ এবং পরবর্তী সুরকার আলতাফ মাহমুদ—সকলেই বরিশালের কৃতি সন্তান। তাদের সৃষ্টিই ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
এছাড়া প্রখ্যাত দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বরিশালে এখনো এই কৃতী সন্তানদের স্মরণে তেমন কোনো স্থায়ী উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অনেক তরুণই জানেন না ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বরিশালের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা। বিশিষ্টজনরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—এভাবে চলতে থাকলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস কেবল কংক্রিটের শহীদ মিনারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।
তাদের মতে, কংক্রিটের চেয়ে মননে নির্মিত শহীদ মিনারই অধিক স্থায়ী। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস, নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব ও তাদের অবদান তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি। স্মৃতিস্তম্ভ, নামফলক, গবেষণা প্রকাশনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে এই গৌরবগাথা সংরক্ষণ ও প্রচার করা জরুরি।
ভাষা আন্দোলনে বরিশালের অবদান শুধু ইতিহাসের অংশ নয়—এটি আমাদের আত্মপরিচয়, চেতনা ও গৌরবের ভিত্তি। এখন প্রয়োজন সেই ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় উদ্যোগ।
