স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলা সাহিত্যের সমকালীন পরিসরে যাঁরা প্রচারের আলো এড়িয়ে নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের মধ্যে ইজাজ আহমেদ মিলন এক উল্লেখযোগ্য নাম। কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক—এই তিন পরিচয়ে তাঁর সৃজনশীল ও পেশাগত পথচলা তাঁকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করেছে।
দৈনিক সমকাল-এর গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত ইজাজ আহমেদ মিলন। তাঁর কাছে লেখালেখি কেবল প্রকাশের মাধ্যম নয়; বরং তা আত্মঅনুসন্ধান ও উপলব্ধির এক গভীর সাধনা। শব্দের ভেতর দিয়ে তিনি নির্মাণ করেন অনুভবের নিজস্ব ভাষা।
তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান শক্তি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। কবিতা, গল্প ও গদ্যে জীবনের অন্তর্গত বেদনা, আশা, দ্বন্দ্ব ও আত্মসংঘাত তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সংযত ভাষায় তুলে ধরেন। উচ্চকণ্ঠ বা অতিনাটকীয়তা তাঁর লেখায় অনুপস্থিত; বরং নীরবতার ভেতর দিয়েই তিনি গভীর অনুরণন সৃষ্টি করেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষ, অব্যক্ত কষ্ট ও নিঃশব্দ অনুভূতি তাঁর লেখায় বারবার নতুন ব্যঞ্জনায় ফিরে আসে।
সমকালীন অনেক লেখকের মতো কেবল নান্দনিকতার আবর্তে আটকে না থেকে তিনি সাহিত্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জীবনদর্শনের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতায় পাওয়া যায় আত্মজিজ্ঞাসা ও আধ্যাত্মিক চেতনা, আর গল্পে উঠে আসে সমাজবাস্তবতার কঠিন ও বাস্তব মুখ। এই ভারসাম্যই তাঁকে পাঠকের কাছে প্রাসঙ্গিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, ইজাজ আহমেদ মিলনের লেখায় রয়েছে এক ধরনের সংযত শক্তি। তিনি শব্দের বাহুল্য পরিহার করে ভাবের গভীরে প্রবেশ করতে জানেন। পরিমিত ভাষা, সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় বক্তব্য—এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁর রচনাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে এবং নিঃশব্দে হলেও বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সাংবাদিকতা ও সাহিত্য—এই দুই ভিন্ন ধারার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ নয়। কিন্তু তিনি দায়িত্ব ও সততার সঙ্গে সেই ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছেন। সংবাদ লেখায় তিনি যেমন তথ্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ, সাহিত্যচর্চায় তেমনি আবেগপ্রবণ ও গভীর। এই দ্বৈত পরিচয়ই তাঁর লেখালেখিকে করেছে বহুমাত্রিক।
জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা—এই সৃজনশীল যাত্রা আরও দীর্ঘ হোক এবং তাঁর কলম মানবিকতা, সত্য ও সৌন্দর্যের পক্ষে দীর্ঘদিন কথা বলুক।
সাহিত্যপ্রেমী মহলের অভিমত, ইজাজ আহমেদ মিলনের জন্মদিন কেবল ব্যক্তিগত আনন্দের উপলক্ষ নয়; এটি বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্যও একটি অর্থবহ দিন। এমন সংবেদনশীল ও দায়বদ্ধ লেখকের উপস্থিতি সাহিত্যকে আরও মানবিক ও সময়োপযোগী করে তোলে।
জন্মদিনে এই কামনাই—ইজাজ আহমেদ মিলনের কলম যেন দীর্ঘদিন সচল থাকে এবং তাঁর লেখায় সময়, সমাজ ও মানুষের সত্য প্রতিফলিত হতে থাকে।
উল্লেখ্য, সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বজলুর রহমান স্মৃতি পদক (দু’বার), কালি ও কলম তরুণ কবি ও সাহিত্য পুরস্কার, আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার, দাগ সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

