নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিন পৃথক ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় থকপুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার ২১ মার্চ নাসির নগর উপজেলার ভলাকুট ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নে পৃথক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকালে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ তৈয়ব মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন স্থানীয় বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়ার ছেলে মজনু মিয়ার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
তিন মাস আগের ফেসবুকে একটি হুমকিমূলক মেসেজকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মহিলা সহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়।
আহতদের মধ্যে বাচ্চু মিয়ার পক্ষের ইকরাম মিয়া, রুবেল মিয়া, কাপতান মিয়া, মফিজ মিয়া, আরিফ মিয়া, জসিম মিয়া, আলমগীর মিয়া, ফরসু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আয়ুব আলী, খেলু মিয়া, ইউনুস মিয়া, হামিম মিয়া, ইমন মিয়া, রিফাত মিয়া, জহিরুল মিয়া, ছেনু মিয়া, তৈয়ব মিয়া, রফিজ আলী, ইউসুব আলী, খাজা আলম, জাহাঙ্গীর মিয়া, কালন মিয়া, আক্কাস আলী ও ইয়াসিন মিয়ার নাম জানা গেছে।
অন্য পক্ষের আহতদের নাম সংঘর্ষ চলাকালীন তাৎক্ষণিকভাবে নাম জানা যায়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
একইদিন সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে যুবককে চোর সন্দেহে মারধরের সময় তার আত্মীয়রা উদ্ধার করতে গেলে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল সরকারের বাড়িতে ঈদের দাওয়াতের কথা বলে ষাটঘর পাড়ার যুবক আমিন মিয়াকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়।
পরে আমিনের মাধ্যমে কৌশলে আরেক যুবক ইব্রাহিমকে ডেকে এনে তাকেও একইভাবে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা উদ্ধার করতে গেলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
গুরুতর আহত নিজাম উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এসআই মোঃ সোহেল জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

