নাটোরের বড়াইগ্রামের পাহাড়াদারদের বেঁধে রেখে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

নাটোর প্রতিনিধি :

 

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মানাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বনপাড়ায় নির্মানাধীন ওই গ্রিডে কর্মরত চারজন পাহাড়াদারকে বেঁধে রেখে ওই মালামাল লুট করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

গ্রিডের উপসহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, গ্রিডে বতর্মানে সিভিল কন্ট্রকশান ও ইলেকট্রিক ফিটিংসের কাজ চলছে। তাদের পক্ষ থেকে চারজন পাহাড়াদার নিয়োগ করা হয়েছে। ইলেকট্রিক অংশের কাজ করছেন চায়না ন্যাশনাল ওয়ার এন্ড ক্যাবল ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিসি কোম্পানি)।

সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী জানান, আমরা চায়না কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমাদের লুট হওয়া মালামাল তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ৩৬৮ পিস ব্যাটারী নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ, ২ হাজার মিটার তামার তার যার আনুমানিক মূল প্রায় ৫৩ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মামলাম মিলে ১ কোটি ৯২ লাখ ষাট হাজার ২৮৯ টাকা।

তিনি আরও জানান, এখানে দুটি ডিভিয়ার দ্বারা সিসি ক্যামেরা পরিচালতি হতো। তারা দুটি ডিভিয়ারই নিয়ে গেছে। একই সাথে পাহাড়াদারদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে।

পাহাড়াদার আবুল কাশেম(৫৫) বলেন, আমি , শফিকুল (৪৮), তার ছেলে সোহাগ (২৪) ও মছেদ আলী (৪২) পাহাড়াদার হিসেবে কাজ করি। সবার বাড়ীই আশেপাশের এলাকায়। বুধবার সন্ধায় আমি ডিউটিতে আসি পরে অন্য তিনজন আসে। সাড়ে ৭ টার দিকে শফিকুল খেতে যায়। বিশ মিনিট পরে গেট খোলার জন্য নক করলে খুলে দেই। এসময় হঠাৎ পেছন থেকে ৫/৬জন শফিকুলের কলার ধরে ভিতরে নিয়ে এসে বলেন, ছাত্তার নামে এখানে কে কাজ করে?এই নামে কেউ নেই জানালে তারা ঘরে চেক করার নামে চারজনকেই নিয়ে আসে। এসময় হঠাৎ অস্ত্র বের করে আমাদের জিম্মি করে বেধে ফেলেন। হাত, মুখ, চোখ, পা বেধে হুমকি দেয় কোন শব্দ করলে প্রাণে মেরে ফেলবো। এরপর ভিতরে গাড়ী ঢোকা এবং কাজ করার শব্দ পাই। প্রায় ৪/৫ ঘন্টা পরে গাড়ী বের হয়ে যাওয়ার শব্দ পাই। অনেকক্ষণ শব্দ না পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে বেশ চেষ্টা করে সোহাগ তার বাবা শফিকুলের পা ও হাতের বাঁধন খুলে দেয়া। পরে শফিকুল সবার বাঁধান খুলে দেয়। আমাদেরকে একটা ঘরে আটকে বাহির থেকে ছিটকিনি দিয়ে রাখা হয়েছিল। আমরা পর্দার ষ্ট্যান্ড খুলে সেটা দিয়ে ছিটকিনি খুলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে বের হই। এরপর আমরা বাহিরে গিয়ে একজনের ফোন নিয়ে ৯৯৯ এ ফোন দেই। একই সাথে ইঞ্জিনিয়ার স্যারদের জানাই।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন কুমার, (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড়, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম, বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন কুমার প্রমূখ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক এবং মালামাল উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here