ঠিকাদার শ্যামল চন্দ্র সাহার ক্ষমতার উৎস কোথায়?

ঠিকাদার শ্যামল চন্দ্র সাহা / ছবি - সংগৃহীত

জামালপুর প্রতিনিধি :

নারী কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম এবং আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ দোসর হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সাহাকে ঘিরে তার ক্ষমতার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাকে নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের দুর্গা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সাহার ব্যবসা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ (সওজ), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ঠিকাদারিতে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় তার প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে। টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি জেলায় তার নামে শত শত কোটি টাকার কাজ থাকার কথাও স্থানীয়দের দাবি।

এছাড়া টাঙ্গাইলে একটি পিসি গার্ডার ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনাতেও তার প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় আসে বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়নি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন জামালপুরের বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পেতেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি অর্থ সহায়তা দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির জন্য তিনি নানা উপহার সামগ্রী পাঠাতেন এবং এভাবে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ ও ডিলারশিপ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে গত এক যুগেরও বেশি সময়ে ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার শ্যামল চন্দ্র সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে প্রশাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here