মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষকদের বাড়িভাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার | ছবি - সংগৃহীত

সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী বাড়িভাড়াসহ শিক্ষকদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের দাবির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল ও সংবেদনশীল। নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আগামী বছর আরও সম্মানজনক একটি কাঠামোর দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষাসচিব রেহেনা পারভীনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘শিক্ষকরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণ। শুরু থেকেই আমি শিক্ষকদের বেতন, প্রশিক্ষণ ও মর্যাদা বাড়ানোর পক্ষে সোচ্চার। আমার সহকর্মী ও অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্যরাও এ বিষয়ে সহানুভূতিশীল। বর্তমানে শিক্ষক সংগঠনগুলো শতাংশভিত্তিক বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবি তুলেছেন। আর্থিক বাস্তবতা অনুযায়ী সরকার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম ২০০০ টাকার বিষয়ে আলোচনা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আগামী বছর আরও সম্মানজনক একটি কাঠামোর দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‌‌‘আমরা তিনটি নীতিতে এগোতে চাই। প্রথমত— বাস্তবতা থেকে মুখ না ফেরিয়ে বাস্তবতাকে বুঝে এগোনো। দ্বিতীয়ত— দোষারোপ নয়, সমাধান খোঁজা। তৃতীয়ত— সংখ্যা নয়, শেখার মানকে সাফল্যের মাপকাঠি করা। এ ফলাফল আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। হয়তো এটি কষ্টের, কিন্তু সত্যের পথে ফেরার সূচনা। আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি, শুনছি ও শিখছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই— একটি সৎ, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গঠন করা। যেখানে প্রতিটি ফলাফলই বাস্তব শেখার প্রতিফল হবে।’

শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিমুহূর্তে কাজ করছি। যদিও অর্থ উপদেষ্টা ও সচিব বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবু আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি। যতটা করা যায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি৷ আলোচনায় বসলে সমাধান আসবে।’

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়