বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর: ৪৫ প্রাণের শূন্যতা আজও বয়ে বেড়াচ্ছে স্বজনরা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর। কিন্তু ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মায়ানী ও মঘাদিয়া ইউনিয়নের মানুষকে। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জনের প্রাণহানির সেই শোক আজও অমলিন।

২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখে বাড়ি ফিরছিল একদল শিক্ষার্থী। গাদাগাদি করে একটি মিনি ট্রাকে করে ফেরার পথে উপজেলার আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি রাস্তার পাশের ডোবায় উল্টে পড়ে। মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায় ট্রাকটি। আনন্দময় সেই যাত্রা রূপ নেয় দেশের অন্যতম মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।

এই দুর্ঘটনায় ৪৩ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন ছিলেন মায়ানী ইউনিয়নের আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এছাড়া মঘাদিয়া ও মায়ানী ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও ছিলেন নিহতদের তালিকায়। কেউ ঘটনাস্থলেই মারা যান, আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এই দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার তাদের একমাত্র সন্তানকে হারায়। কোথাও হারিয়ে যায় পরিবারের ভবিষ্যতের একমাত্র অবলম্বন। সেই ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।

দুর্ঘটনার ১৫ বছর পরও অনেক মা সন্তানের স্কুলব্যাগ, বই-খাতা কিংবা ছবি আগলে রেখেছেন। কেউ সন্তানের ব্যবহৃত পোশাক স্পর্শ করে আজও অশ্রু ঝরান। সময়ের ব্যবধানে স্মৃতি ম্লান হয়নি, বরং প্রতি বছরের ১১ জুলাই এলেই নতুন করে জেগে ওঠে সেই বেদনা।

মিরসরাই ট্র্যাজেডির এই দিনে স্থানীয়ভাবে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়। স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা—এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন আর কখনও কোনো পরিবারকে এমন শোকের মুখে না ফেলে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়