স্টাফ রিপোর্টার :
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের গুরুদায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।”
তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তার তিনটি প্রধান দায়িত্ব— হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংস্কার সম্পন্ন করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর— সফলভাবে সম্পাদনের পথে এগোচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা হত্যাকাণ্ডের বিচার এগিয়ে নিচ্ছি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় দিতে যাচ্ছে, গুমসহ অন্যান্য অপরাধের বিচারও শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সংস্কারের ক্ষেত্রেও আমরা বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও ডিজিটালাইজেশনে বহু সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে।”
রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত নয় মাসের পরিশ্রমে ‘জুলাই সনদ’ নামে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবনায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি। “জুলাই সনদের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একটি ঐতিহাসিক ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এতে জাতি এগিয়ে যেতে সাহস পাবে,” — বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয়েছে, যা গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
সবশেষে তিনি ঘোষণা দেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে গণভোটের আয়োজন করা হবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক