বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ইচ্ছামতো’ আইন-বিধি সংশোধন করায় ইসির প্রতি ক্ষোভ জোনায়েদ সাকির

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জোনায়েদ সাকি / ফাইল ফুটেজ

ডেস্ক নিউজ :

সরকার উৎখাতের পর গঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন নির্বাচনী বিধি ও আইন পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জোনায়েদ সাকি। বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি তার দলের পক্ষে প্রতিবাদ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সাকি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ট্রানজিশন ও জাতীয় ঐকমত্য গঠনে আলাপ-আলোচনা অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন যেসব আইন ও বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে, সেসব বিষয়ে আগে থেকেই স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা জরুরি ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ এককভাবে করা সম্ভব নয়; বরং সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐকমত্য ও আলোচনার গুরুত্ব আরও বেশি।

নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘসূত্রতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে তাদের দল নিবন্ধন পেতে যে প্রতিকূলতার শিকার হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিবন্ধনের আবেদন করলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে তা কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পরও পূর্ববর্তী সরকার পতনের আগ পর্যন্ত নিবন্ধন পাননি তারা।

ভালো নির্বাচনের জন্য আইনি কাঠামোর চেয়ে পরিবেশ তৈরিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত দেন সাকি। নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও ইসির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘নির্বাচন পরিবেশ মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি, যা সংঘাতময় পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম হবে।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনকে একটি প্রকৃত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ‘কনস্টিটিউশনাল কমিশনের মাধ্যমে’ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পক্ষে মত দেন তিনি। ছোট ও নতুন দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

তার অন্যান্য প্রধান প্রস্তাবনাগুলো হলো— নির্বাচনী প্রতীক বড় আকারে ছাপানো, জোটগত প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য আলাদা বুথ, কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ব্যাকআপে সেনা সদস্যের সংখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) লেনদেনের তথ্য জমা দেওয়া, ইউনিয়ন/ওয়ার্ডভিত্তিক পোস্টার/ফেস্টুন সীমা বাস্তবসম্মত করা, প্রচারণায় লিফলেটের পাশাপাশি অন্তত একটি মাইক ব্যবহারের অনুমতি, নির্দিষ্ট স্থানে পোস্টার লাগানোর ব্যবস্থা এবং দলভেদে নির্দিষ্ট পোস্টার বরাদ্দ।

সাকি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যখন সহযোগিতা করেছে, তখনই দেশে ভালো নির্বাচন হয়েছে।” তাই একটি জবাবদিহিমূলক ও ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়