গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে কথিত নিয়োগকে ঘিরে উত্তেজনা, পাঠদান বন্ধ রেখে সাংবাদিক সম্মেলনের অভিযোগ

0
50
ডিমলায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজে সাংবাদিক সম্মেলন / ছবি - এই বাংলা

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় তিনজন কর্মচারী ও পাঁচজন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠান খোলা থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে কলেজ মাঠে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে, যা শিক্ষা প্রশাসনের নীতিমালার পরিপন্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি কলেজ শাখায় কথিত নিয়োগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠান চলমান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে কলেজ মাঠে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ শাখার অধ্যক্ষ পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও ফিরোজুল ইসলামের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন অনেকে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন সরকার জানান, ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সেদিন ছুটিতে ছিলেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে তার বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। বিষয়টি তিনি গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলে জানান।

গভর্নিং বডির সভাপতি ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে পাঠদান বন্ধ রেখে সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here