কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা মৌলভীপাড়া এলাকায় তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রবি এন্টারপ্রাইজ প্রায় ৭শ মিটার এলাকায় সিনথেটিক জিও ব্যাগের কার্পেটিং ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্ধারিত সিডিউল না মেনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা কাজে বাধা দেন। এ সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হলে এক পর্যায়ে এলাকাবাসী কাজটি বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রফিক অভিযোগ করে বলেন, তার বাড়ি নদীর একেবারে কিনারায়। তার বাড়ির সামনে মিক্সার মেশিন বসিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত পরিমাণ সিলেকশন বালু দেওয়া হচ্ছে না, অনেক সময় অর্ধেক দেওয়া হয় বা দেওয়া হয় না। সিমেন্টও মাঝে মাঝে কম দেওয়া হচ্ছে।

এতে কাজের মান দুর্বল হয়ে পড়ছে। এছাড়া জিও ব্যাগের বস্তায় যে পরিমাণ বালু ও সিমেন্ট থাকার কথা তার চেয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কেজি কম পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমি তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার একজন মানুষ। তাই ভালোভাবে কাজটি সম্পন্ন হোক, সেটাই চাই।”

একই এলাকার বাসিন্দা হরপ্রসাদ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজটি সঠিকভাবে করা হচ্ছে না। অফিসের লোকজনকে বিষয়টি জানালেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এসময় নদীর তীরে ডাম্পিং করা অসংখ্য ছেঁড়া-ফাটা জিও ব্যাগ সাংবাদিকদের দেখিয়ে স্থানীয়রা জানান, এখানে ফেলা অনেক জিও ব্যাগই ছিঁড়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে এসব বস্তা থেকে বালু বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তীর সংরক্ষণ বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় এক কিশোর সিফাত নদীর তীরে ফেলা জিও ব্যাগগুলোর ছেঁড়া অংশ দেখিয়ে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আনে।

ভেকু চালক মোঃ আহসান হাবীব জানান, তিনি স্লোপিং, পাইলিং ও খননের কাজ করছেন। তার দাবি অনুযায়ী উপরিভাগ থেকে নিচ পর্যন্ত ১০ মিটার, নিচের টপ থেকে জিও ব্যাগ ডাম্পিং পর্যন্ত ১৮ মিটার এবং গভীরতা ৭ মিটার। তবে সরেজমিনে এসব তথ্যের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রবি এন্টারপ্রাইজ-এর ম্যানেজার মোঃ আশরাফুল ইসলাম কাজ বন্ধের বিষয়ে বলেন, স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কী ধরনের সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি পরে নির্দিষ্ট একটি স্থানে দেখা করতে বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, কাজ বন্ধের বিষয়টি তার জানা নেই। এছাড়া যে কাজটি এখনও শুরু হয়নি, সেটি দ্রুত শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here