নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিমে এক বৃদ্ধাকে হত্যা এবং বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরির ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এক নারী গৃহকর্মীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেয় সংস্থাটি।
নিহত নারী আয়শা আক্তার (৬২)। তাঁর স্বামী মো. আনোয়ার হোসেন (৬৮) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক নারী গৃহকর্মী ছদ্মনামে ওই বাসায় কাজে যোগ দেন। তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কখনো ‘মমতাজ’, কখনো ‘মারুফা’ নামে পরিচয় দেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসার মালিক ও তাঁর স্ত্রী বাইরে থাকাকালে ওই গৃহকর্মী খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে আয়শা আক্তার ও তাঁর স্বামীকে অচেতন করেন।
পরে আয়শা আক্তারকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একই ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর বাসার আলমারি ও কক্ষ তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নিহতের কক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ ভরি ১০ আনা এবং আরেক কক্ষ থেকে ছয় ভরি স্বর্ণালংকারসহ মোট প্রায় ৩১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যমানের গয়না ও নগদ এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে।
পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে ওই নারী বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে একটি পলিথিন ব্যাগ হাতে বের হয়ে যান।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পিবিআই জানায়, তদন্তে ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তাঁর নাম বিলকিছ বেগম (৪০)। পরে একাধিক জেলা ও এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার বঙ্গগলি, আউটপাড়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে বিলকিছ বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি আগেও বিভিন্ন ছদ্মনামে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে একই কায়দায় চুরি ও চেতনানাশক প্রয়োগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় তাঁর সহযোগী হিসেবে রবিউল আউয়াল (৫৩) নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৩০০ টাকা, একটি ওষুধের খালি পাতা এবং একটি ছোট হাতব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা আলামত ও গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

