ইসলামী জোট ভাঙন, বরিশাল সদর-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

0
57
বরিশাল সদর-৫ আসনে সরোয়ার, হেলাল, ফয়জুলের ত্রিমুখী লড়াই / ছবি - এই বাংলা

বরিশাল ব্যুরো :

দীর্ঘ আলোচনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ইসলামী সমমনা দলগুলোর জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ১১ দলীয় জোট ত্যাগ করে দলটি এককভাবে দেশের ২৬৮টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোট ছাড়ার কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এর মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল সদর-৫ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা ও জল্পনার অবসান ঘটে।

বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

শুরু থেকেই আসনটি ইসলামী আন্দোলন নিজেদের দাবি করে আসছিল। দলটির যুক্তি ছিল—আমীরের বাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় বরিশাল সদর তাদের জন্য স্বাভাবিক দাবি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কয়েকদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মুফতি ফয়জুল করিম ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “এটি যেহেতু আমীরের আসন, তাই অন্য কারও দাবি যৌক্তিক নয়।” তবে দীর্ঘ দরকষাকষির পরও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উভয় দলই গুরুত্বপূর্ণ এই আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করায় জোট রাজনীতির সেই অচলাবস্থার ইতি ঘটে। ফলে বরিশাল সদর-৫ আসনে এবার আলাদা আলাদা প্রতীকে নির্বাচনে লড়বেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম ও অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

ভোটারদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসনে এবার ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে যাচ্ছে। শুরুতে ইসলামী দলগুলোর যৌথ প্রার্থী থাকলে বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারত—এমন ধারণা থাকলেও জোট ভেঙে যাওয়ায় সেই চাপ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here