বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার গোয়ালগাঁও ফজিলতপাড়া গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম এবছর শোক জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। কিন্তু অনুকূল আবহাওয়া না থাকা, রোগ-পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং চাষাবাদের ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে এখন তিনি চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই একর জমিতে শোক জাতের ধান রোপণ করেছিলেন তিনি। মৌসুমের শুরুতে ধানের চারা ভালো থাকলেও, হঠাৎ বৃষ্টির অভাব ও পরে অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে যায়। এতে শীষ ঠিকভাবে বের হয়নি এবং পরবর্তীতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। ফলে ফলন আশানুরূপ হচ্ছে না।
তার ভাষায়, “ধানের খরচ এখন অনেক বেড়ে গেছে। সার, কীটনাশক আর শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম দ্বিগুণ। কিন্তু ফলন যদি না হয়, তাহলে ঋণ শোধ করব কীভাবে?”
স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক কৃষকই এ বছর একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে শোক জাতের ধানে পোকার আক্রমণ ও ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং আক্রান্ত জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যাচ্ছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় কৃষি উপসহকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাইফুল ইসলামের মতো অনেক চাষিই এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছেন—ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

