অর্থনীতির কঠিন সন্ধিক্ষণ: বিনিয়োগ স্থবির, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী-কঠিন পরীক্ষায়: আমীর খসরু

0
57
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী / ছবি - এই বাংলা

বিশেষ প্রতিনিধি :

 

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগে ভাটা, কর্মসংস্থানের সংকোচন, দারিদ্র্যের ঊর্ধ্বগতি এবং লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের চাপ, তারল্য সংকট এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘস্থায়ী আস্থাহীনতা অর্থনীতির ভিতকে নড়বড়ে করে তুলেছে।

এই বাস্তবতায় দেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধান করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোবে।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ কমেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্বের চাপ বেড়েছে।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং তারল্য ঘাটতিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, তদারকি জোরদার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সময়ের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনও অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, নতুন অর্থমন্ত্রী একসময় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বাজার কাঠামো ও করপোরেট গভর্ন্যান্স বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা পুঁজিবাজার পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বাজার তদারকি বাড়ানো ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

নতুন অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রথম ধাপে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, দ্বিতীয় ধাপে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার এবং তৃতীয় ধাপে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি মজবুত করার রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বেসরকারি খাত সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জোরদারে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

তবে অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় দ্রুত ফল পাওয়া সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক নীতি প্রণয়ন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই স্থবিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে। দেশের অর্থনীতি এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—আর এই মুহূর্তে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের গতি। সেই পরীক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here