অভিমান ভুলে ২৩ বছর পরে এক কাতারে গ্রামবাসীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় 

নাটোর প্রতিনিধি :

 

অভিমান ভুলে ২৩ বছর পরে এক কাতারে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন নাটোর জেলার সদর উপজেলার ২নং তেবাড়ীয়া ইউনিয়নের অর্ন্তগত রুয়েরভাগ গ্রামের বাসিন্দারা।

এই ঘটনায় গ্রামজুরে আনান্দের বন্যা বইছে।

২০০৩ সালে গ্রামে দুইটি পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্য থেকে শুরু হয় মান-অভিমান।আলাদাভাবে গঠিত হয় দুইটি সমাজ।তৈরি হয় আলাদা মসজিদ।

এক সময় এক পক্ষের লোকজন অন্য পক্ষের দাওয়াত খাওয়া থেকে শুরু করে কোন কাজে যেতে পারতো না।ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সেই কোন্দল।

২০০৮ সালের পর থেকে দুই সমাজের দুইজন মোঃ আশরাফুল ইসলাম ও মোঃ আল আমিন এর মাধ্যমে শুরু হয় পরিবর্তন।শুরুতে অনেক বাধার সম্মুখীন হলেও হাল ছাড়েন নি দুজনে।

নিজের চাকরির তোয়াক্কা না করেও এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে গেছে আল আমিন ও আশরাফুল ইসলাম। তখন থেকেই দাওয়াত খাওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক সকল অনুষ্ঠানে একসাথে হবার পরিক্রমা শুরু হয়।

গ্রামে আলাদা মসজিদ ও গোরস্থান থাকলেও ঈদগাহ মাঠ ছিলনা।গত বছর ডিসেম্বর মাসে মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লার উদ্যোগে গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ কল্পে ওয়াজ মাহফিল। সেই মাহফিলে মরহুম মোহাম্মদ আলীর পরিবার থেকে দান করা হয় জমি।সেই জমিতেই নির্মাণ করা হয় ঈদগাহ মাঠ।

নতুন ভাবে তৈরিকৃত সেই ঈদগাহ মাঠে দুই সমাজের মানুষকে এক কাতারে এনে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম ও মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লা। তারই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার গ্রামে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে সকলে সম্মতিক্রমে আজকে দীর্ঘদিনের মান-অভিমান, ভেদাভেদ ভুলে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের নামাজ একমাঠে একসাথে আদায় করা হয়।

 

দীর্ঘদিন পর একসাথে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পরে গ্রামবাসী। এসময় তারা আবেগে আপ্লূত হয়ে পরে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য মোঃ মিনছার আলী মোল্লা, গ্রামের মুরুব্বি মোঃ মকছেদ আলী মোল্লা,মোঃ আসিফ ইকবাল সুমন,মোঃ মফিজুল ইসলাম।

এ সময় সর্ব সম্মতিক্রমে মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লাকে সভাপতি এবং মোঃ আসিফ ইকবাল সুমনকে সম্পাদক ঘোষনা করা হয়।পরবর্তীতে আলোচনা সাপেক্ষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

ঈদের নামাজ পড়ান মাওলানা মোঃ দেলোয়ার হোসেন সাইফি এবং খুতবা প্রদান করেন মাওলানা মোঃ আমিরুল ইসলাম। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যান এবং গ্রামের মানুষের উন্নতি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here