
পিরোজপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুর জেলার কদমতলা ইউনিয়ন যেন উন্নয়নের প্রধান স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এক অবহেলিত জনপদ। এলাকাবাসীর অভিযোগ—রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন বহু বছর ধরেই থেমে আছে। ফলে জনদুর্ভোগ এখন নিত্যসঙ্গী।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা সংস্কারের অভাবে চলাচল একেবারে দুরূহ হয়ে পড়েছে। বর্ষায় অনেক রাস্তায় হাঁটাও কঠিন হয়ে ওঠে, যা কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী আনা-নেওয়া এবং জরুরি সেবায় বড় বাধা তৈরি করছে। বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙে রয়েছে বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এতে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে ভোগান্তির শেষ থাকে না।
শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও চিত্র একই। বহু বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ; নেই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারছে না, মানসম্মত শিক্ষায়ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতের কিছু জনপ্রতিনিধির আমলে উন্নয়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া বিপুল অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয় না হয়ে নষ্ট হয়েছে। ফলে কদমতলা ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা বলেন, “এলাকার মানুষ মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নাঈম মাহমুদ বলেন, “আমরা স্বীকার করি—কদমতলা ইউনিয়নে উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনসেবার উন্নতি এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে আমরা কাজ করব।”
স্থানীয়দের আশা, অবকাঠামো উন্নয়নে শিগগিরই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অতীতের দুর্নীতির অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে—যাতে জনগণের অর্থ সঠিকভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
