কুড়িগ্রামে খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে কৃষকদের হয়রানির বিষয়ে জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকের উপর চটে গেলেন কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী মোঃ হামিদুল হক। এ সময় তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করেন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও আগামীর সময় পত্রিকার কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মোঃ তামজিদ হাসান তুরাগের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ওই কর্মকর্তা। যার অডিও রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।

অডিও রেকর্ডে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি সাংবাদিক তামজিদকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই অযাচিত প্রতিক্রিয়া দেখান। একপর্যায়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক মোঃ তামজিদ হাসান তুরাগ বলেন, ‘সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম নিয়ে কৃষকদের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনুসন্ধানে কৃষক ভোগান্তির বেশ কিছু সত্যতাও পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে যাই। সেখানে তাকে না পেয়ে ফোন করি। ধান সংগ্রহ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাই বলতেই চটে যান। নিজেকে তিনি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকা কর্মচারী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন।’

তামজিদ বলেন, ‘আমি তাকে বলি যে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, আমি সে বিষয়ে কথা বলতে চাই। এই কথা বলতেই কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ আমাকে বলেন, “আমার সঙ্গে আলাপ করার কী আছে? আমি কী আপনার চাকরি করি, না আপনি আমার চাকরি করেন। আপনার বিষয় থাকলে আপনারটা আপনি দেখবেন। এগুলা নিয়ে বিরক্ত করবেন না।” এই বলে তিনি আর কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দেন।’

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

‘কৃষকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে খাদ্য বিভাগ নিয়মিত অনিয়ম আর প্রতারণা করে যাচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে তারা কোনও জবাব দিতে রাজি নন। একজন সরকারি কর্মচারী যদি সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ করার ধৃষ্টতা দেখান তাহলে কৃষকদের সঙ্গে তার আচরণ কেমন তা সহজেই বোঝা যায়।’ বলেন সাংবাদিক তামজিদ।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যসচিব ও এটিএন নিউজের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মোঃ মনোয়ার হোসেন লিটন। তিনি বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মচারীর এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অসদাচরণ করছেন।

একজন গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করবেন এটি স্বাভাবিক বিষয়। জবাব দেওয়া না দেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এখতিয়ার। কিন্তু তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে থাকবে।’

জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী মোঃ হামিদুল হক বলেন, ‘কাজের ব্যস্ততায় সারাদিন একই মুড থাকে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। আমার কথা হয়তো রূঢ় মনে হতে পারে। কিন্তু আমি খারাপ আচরণ করি নাই। এটা নিয়ে আপনারা মন খারাপ কইরেন না। উনি যে অভিযোগের কথা বলছেন আমি পরে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। সকালে একই অভিযোগ পেয়ে লেবারদের বলেছি যে এগুলো করা যাবে না। তাকে সেটা ফোন করে জানিয়েছি। আমি কোনও অসৌজন্যমূলক আচরণ করি নাই।’

তার কথপোকথনের অডিও সংরক্ষণের বিষয়ে জানালে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘আমার অনুমতি ছাড়া এটা তিনি কেন করেছেন? অনুমতি ছাড়া কারও কথা রেকর্ড করা উচিত নয়। তবে আমার কথায় আপনারা মন খারাপ করিয়েন না। সারাদিন অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। সবসময় মুড এক রকম থাকে না।’

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here