সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে নাটোরে সোনালী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ জালিয়াতি, ভুয়া ঋণপত্র তৈরি ও অতিরিক্ত আমানত সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে নাটোরে সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন লিটন কুমার, বিপুল পাল, এইচ এম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামান। তারা সবাই প্রিন্সিপাল অফিসার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ব্যাংক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লিটন কুমারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিপুল পালের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, নাটোরে কর্মরত থাকার সময় ওই দুই কর্মকর্তা বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের নাটোর থেকে বদলি করে নওগাঁ জেলায় পদায়ন করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বরখাস্ত হওয়া অপর তিন কর্মকর্তা—এইচ এম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থের ভুয়া ঋণপত্র তৈরি এবং অতিরিক্ত আমানত সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। তারা নাটোরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দায়িত্ব পালনকালে ওই কর্মকর্তারা ব্যাংকের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

নাটোর সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর